বঙ্গে ধরা পড়ল ১৪ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী, জাল আধার কার্ড নিয়ে কাশ্মীরে যাওয়ার পথে আটক

জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনে রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্সের (আরপিএফ) বিশেষ অভিযানে ধরা পড়ল ১৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক। দিল্লিগামী নর্থইস্ট এক্সপ্রেস থেকে এদের আটক করা হয়। ধৃতদের মধ্যে ৪ জন মহিলা এবং ৪ জন শিশু রয়েছে বলে আরপিএফ সূত্রে জানা গেছে। প্রাথমিক তদন্তের পর আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ধৃতরা সকলেই অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিল এবং ট্রেনে করে কাশ্মীরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের।
আরপিএফ ইন্সপেক্টর বিপ্লব দত্ত জানান, গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে স্টেশনে রুটিন তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। সেই সময় ট্রেনের ভেতরে বেশ কিছু যাত্রীর গতিবিধি দেখে সন্দেহ হয় জওয়ানদের। তাদের পরিচয়পত্র যাচাই করতে গেলে দেখা যায়, প্রত্যেকের কাছে থাকা আধার কার্ডগুলি জাল। এরপরই ৫ জন পুরুষ, ৫ জন মহিলা এবং ৪ শিশুকে ট্রেন থেকে নামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে মালয়েশিয়ান মুদ্রাও উদ্ধার করা হয়েছে।
ধৃতদের জেরা করে জানা গেছে, তারা মূলত কাজের সন্ধানেই কাশ্মীর যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ভারতে প্রবেশের পর তারা জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়ো ভারতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছিল, যাতে সফরের সময় বা কাজের জায়গায় কোনও সমস্যার মুখে পড়তে না হয়। তবে রেল পুলিশের তৎপরতায় সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। বর্তমানে ধৃতদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর রেলওয়ে স্টেশনে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে সীমান্তে ও রেলপথে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে প্রশাসন। বিশেষ করে ভিনরাজ্যে যাওয়ার ট্রেনগুলোতে তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে। এর আগেও ১৩ মার্চ দিল্লিতে ১০ জন বাংলাদেশিকে জাল মেডিক্যাল ভিসার দায়ে আটক করেছিল পুলিশ। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বাংলা থেকে বিপুল সংখ্যক অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
বর্তমানে ফরেন রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) ধৃতদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া বা ডিপোর্টেশনের কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি এই আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে স্থানীয় আর কারা জড়িত, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে। অনুপ্রবেশ রুখতে গোয়েন্দা বিভাগ নিয়মিত ইনপুট সংগ্রহ করছে এবং বৈধ কাগজপত্রহীন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার কাজ অব্যাহত রেখেছে।