বঙ্গে ভোটের ময়দানে আসাদউদ্দিন ওয়েইসি প্রথম প্রার্থীতালিকা ঘোষণা করল মিম

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পারদ চড়িয়ে প্রথম দফার প্রার্থীতালিকা ঘোষণা করল আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন (AIMIM)। আসন্ন নির্বাচনে হুমায়ুন কবীরের ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (AJUP)-র সঙ্গে জোট বেঁধে লড়াইয়ে নেমেছে তারা। গত ১ এপ্রিল মুর্শিদাবাদের নওদায় আয়োজিত এক বিশাল যৌথ জনসভা থেকে জোটের আনুষ্ঠানিক রণকোরস শুরু করেন ওয়েইসি ও কবীর।
প্রথম তালিকায় মোট ১২টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম প্রকাশ করেছে মিম। এই কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে রঘুনাথগঞ্জ, আসানসোল উত্তর, কান্দি, সুজাপুর এবং মোথাবাড়ি। এছাড়াও নলহাটি, মুরারই, বারাসাত, করণদিঘি, সূতি, বসিরহাট দক্ষিণ ও হাবড়া আসনেও প্রার্থী দিচ্ছে তারা। মূলত উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোকেই পাখির চোখ করছে এই জোট।
জনসভা থেকে তৃণমূল ও বিজেপিকে একযোগে আক্রমণ শানিয়েছেন ওয়েইসি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নরেন্দ্র মোদীকে ‘ভাই-বোন’ সম্বোধন করে তিনি দাবি করেন, বিগত ১৫ বছরে তৃণমূল সরকার মুসলিম সংখ্যালঘুদের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন করেনি। বাম এবং কংগ্রেস আমলেও সম্প্রদায়ের মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে তিনি সরব হন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের শাসকদল ও গেরুয়া শিবিরের মধ্যে তলে তলে সমঝোতা চলছে।
অন্যদিকে, জোটসঙ্গী হুমায়ুন কবীরের দল ইতিমত্যেই ১৮২টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। উন্নয়নের বার্তা দিয়ে প্রকাশিত ইস্তাহারে মুর্শিদাবাদে বিমানবন্দর নির্মাণ, নতুন সেতু স্থাপন এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্যের উন্নতির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কন্যা সন্তানের জন্ম ও মহিলাদের জন্য মাসিক ভাতার মতো সামাজিক সুরক্ষামূলক প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেছেন হুমায়ুন কবীর।
রাজনৈতিক মহলের মতে, মিম ও এজেইউপি জোটের এই সক্রিয়তা রাজ্যের ভোট সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ, মালদা ও উত্তর দিনাজপুরের মতো জেলাগুলোতে সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংকে ভাঙন ধরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ‘শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের স্বপ্ন পূরণ’ করার অঙ্গীকার নিয়ে ওয়েইসির দল এখন বাংলা জয়ের লক্ষ্যে কোমর বেঁধে ময়দানে।