বঙ্গ জয়ে শাহী হুঙ্কার, ৯ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে অমিত শাহের ম্যারাথন প্রচার

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাপ এখন তুঙ্গে। রাজ্যের নির্বাচনী বৈতরণী পার করতে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কোচবিহার থেকে প্রচারের সূচনা করার পর এবার বঙ্গে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দলের প্রকাশিত ৪০ জন হেভিওয়েট ‘তারকা প্রচারকের’ তালিকায় শাহের নাম থাকায় কর্মীদের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
দলীয় সূত্রে খবর, আগামী ৯ এপ্রিল বাংলায় পা রাখছেন অমিত শাহ। এরপর ১১, ১২, ১৯, ২৩ এবং ২৬ এপ্রিল রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক জনসভা করবেন তিনি। শাহের এই সফরসূচি উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গ—উভয় অঞ্চলকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে সাজানো হয়েছে। বিশেষ করে ২৬ এপ্রিল প্রচারের শেষ দিনে কলকাতার ভোট ময়দানে তাঁর উপস্থিতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এর আগে গত ২ অগাস্ট ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়নকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এক কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে অমিত শাহ বড় ঘোষণা করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে তিনি নিজে সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন এবং টানা ১৫ দিন রাজ্যে অবস্থান করবেন। সেই প্রতিশ্রুতি মেনেই শাহের এই ঝোড়ো সফর শুরু হতে চলেছে।
দলীয় কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন, এই নির্বাচনে বাংলায় পরিবর্তন আসবেই। তাঁর মতে, নন্দীগ্রামের প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর জয়ই হবে সেই পরিবর্তনের সূচনালগ্ন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয় নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েই বিজেপি তাঁদের প্রচার কৌশল সাজিয়েছে। আসন্ন এই সফরগুলোতে তিনি মূলত রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াইয়ের রূপরেখা তুলে ধরবেন।
সার্বিকভাবে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পর্যায়ক্রমিক সফর বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একদিকে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা দিয়ে শুরু হওয়া প্রচারের গতি ধরে রাখা এবং অন্যদিকে শাহের ম্যারাথন সফরের মাধ্যমে শেষ দফার আগে ভোটারদের মন জয় করাই এখন পদ্ম শিবিরের মূল লক্ষ্য। ৯ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই হাই-ভোল্টেজ প্রচার চলবে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত।