বড় খবর: ১ বছর চাকরি করলেই মিলবে গ্র্যাচুইটি, নতুন নিয়মে কপাল খুলল কর্মীদের

দেশের কর্মসংস্থান খাতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে নতুন লেবার কোড। দীর্ঘদিনের প্রচলিত নিয়ম ভেঙে এখন থেকে মাত্র এক বছর চাকরি করলেই গ্র্যাচুইটির সুবিধা পাওয়ার পথ প্রশস্ত হয়েছে। সামাজিক সুরক্ষা আইনের অধীনে আনা এই পরিবর্তন মূলত নির্দিষ্ট শ্রেণির কর্মীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
গ্র্যাচুইটির নতুন নিয়ম ও পরিবর্তন
পুরানো শ্রম আইন অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠানে টানা ৫ বছর কাজ না করলে সংশ্লিষ্ট কর্মী গ্র্যাচুইটি পাওয়ার যোগ্য হতেন না। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এই সময়সীমা কমিয়ে ১ বছর করা হয়েছে। তবে এই সুবিধা সব ধরনের কর্মীর জন্য ঢালাওভাবে কার্যকর নয়।
কারা পাবেন এই বিশেষ সুবিধা
নতুন এই নিয়মের সবচেয়ে বড় সুফল ভোগ করবেন ‘ফিক্সড টার্ম’ বা চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা।
- চুক্তিভিত্তিক কর্মী: যারা ১ বা ২ বছরের চুক্তিতে কাজ করেন, তারা এখন থেকে ১ বছর পূর্ণ করলেই গ্র্যাচুইটির টাকা পাবেন। আগে এই কর্মীরা মেয়াদের শেষে খালি হাতে ফিরতেন।
- স্থায়ী কর্মী: নিয়মিত বা স্থায়ী কর্মীদের ক্ষেত্রে ৫ বছর কাজ করার শর্তটি এখনও বহাল রয়েছে। অর্থাৎ স্থায়ী পদের কর্মীদের এই সুবিধা পেতে ৫ বছর অপেক্ষা করতে হবে।
বেতন কাঠামো ও হিসাবের ওপর প্রভাব
এই নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার ফলে কর্মীদের বেতন কাঠামো বা ‘স্যালারি স্ট্রাকচারে’ বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।
- ৫% বেসিক স্যালারি রুল: নতুন নীতি অনুযায়ী, সংস্থাগুলোকে এখন থেকে মোট সিটিসি-র (CTC) অন্তত ৫০ শতাংশ অংশ ‘বেসিক স্যালারি ও মহার্ঘ ভাতা’ হিসেবে রাখতে হবে। যেহেতু গ্র্যাচুইটির হিসাব করা হয় মূল বেতনের ওপর ভিত্তি করে, তাই বেসিক বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই গ্র্যাচুইটির অংকও বড় হবে।
- প্রো-রাটা ভিত্তি: এক বছর পর গ্র্যাচুইটি পাওয়া গেলেও এর পরিমাণ ৫ বছরের তুলনায় আনুপাতিক হারে কম হবে। এটি মূলত ওই কর্মীর কাজের মাস বা বছরের ওপর ভিত্তি করে (Pro-rata basis) হিসাব করা হবে।
সম্ভাব্য প্রভাব ও বিশ্লেষণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে বেসরকারি খাতের অস্থায়ী বা চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়বে। এর ফলে একদিকে যেমন কর্মীদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে কো ম্পা নিগুলোর ওপর আর্থিক দায়ভার কিছুটা বাড়লেও তা স্বচ্ছ বেতন কাঠামো তৈরিতে সাহায্য করবে। বিশেষ করে বর্তমানের অস্থির কর্মবাজারে যেখানে দ্রুত চাকরি পরিবর্তনের প্রবণতা বেশি, সেখানে ১ বছরের এই নিয়ম সাধারণ চাকরিজীবীদের জন্য একটি বড় প্রাপ্তি।
একঝলকে
- চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের জন্য গ্র্যাচুইটির সময়সীমা ৫ বছর থেকে কমিয়ে ১ বছর করা হয়েছে।
- স্থায়ী কর্মীদের ক্ষেত্রে ৫ বছরের পুরানো নিয়মই কার্যকর থাকবে।
- সিटीसी-র ৫০ শতাংশ বেসিক স্যালারি হওয়া বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
- বেসিক বেতন বৃদ্ধি পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত গ্র্যাচুইটির মোট পরিমাণও বাড়বে।
- চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা এখন ১ বছর পূর্ণ করলেই আনুপাতিক হারে আর্থিক সুবিধা পাবেন।