বন্দুক ঠেকিয়ে কি দলবদল কোচবিহারে? বিজেপির শক্তিকেন্দ্র প্রমুখের বাড়িতে তাণ্ডবের অভিযোগ
নির্বাচনের দামামা বাজতেই ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল কোচবিহারের দিনহাটা। সোমবার গভীর রাতে কিশামত দশগ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগের তির তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে। বিজেপির দাবি, তাদের বুথ স্তরের নেতা অর্জুন দাসের বাড়িতে সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে শাসকদলের আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। প্রাণভয়ে অর্জুনবাবু পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে কোচবিহারে মেয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিলেও রেহাই পায়নি তাঁর পরিবার। বিজেপি নেতার স্ত্রী, ছেলে এবং মেয়েকে মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অন্য দিকে, একই রাতে আরও এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাক্ষী থাকল নিগমনগর বাজার এলাকা। বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য কমল বর্মন অভিযোগ করেছেন যে, ওষুধ কিনতে যাওয়ার সময় তাঁকে কার্যত ‘হাইজ্যাক’ করা হয়। তাঁর দাবি, অঞ্চল চেয়ারম্যান অর্জুন বর্মনের নেতৃত্বে একদল দুষ্কৃতী তাঁর মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে তাঁকে জোরপূর্বক তৃণমূলের ব্লক সভাপতি দীপক ভট্টাচার্যের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাণে মারার ভয় দেখিয়ে তাঁর হাতে জোর করে তৃণমূলের পতাকা তুলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
বিজেপি নেতা অর্জুন দাসের মেয়ে অনিতা এই ঘটনায় চরম আতঙ্ক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, তাঁর বাবা এখন বাড়ি ফিরতে ভয় পাচ্ছেন এবং বাড়িতে থাকা মহিলারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। যদিও এই সমস্ত অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তাদের দাবি, বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে এবং রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই তৃণমূলের নাম জড়ানো হচ্ছে। উত্তপ্ত এই পরিস্থিতিতে এলাকায় পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে।