বন্দে মাতরম বিতর্কে উত্তপ্ত ইনদোর পুরসভা কংগ্রেস কাউন্সিলরের মন্তব্যে তীব্র চাঞ্চল্য

বন্দে মাতরম বিতর্কে উত্তপ্ত ইনদোর পুরসভা কংগ্রেস কাউন্সিলরের মন্তব্যে তীব্র চাঞ্চল্য

মধ্যপ্রদেশের ইনদোর পুরসভার বাজেট অধিবেশনে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া নিয়ে এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। দুই মুসলিম কংগ্রেস কাউন্সিলরের অবস্থানকে কেন্দ্র করে পুরসভার অন্দরে সংঘাত চরম রূপ নেয়। এই ঘটনা কেবল একটি আইনি প্রশ্ন নয়, বরং জাতীয়তাবাদ বনাম ধর্মীয় বিশ্বাসের এক গভীর দ্বন্দ্বে রূপ নিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ও প্রতিবাদ

বুধবার অধিবেশন শুরুর প্রাক্কালে প্রথা অনুযায়ী ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া শুরু হলে কংগ্রেসের দুই কাউন্সিলর ফৌজিয়া শেখ আলিম এবং রুবিনা ইকবাল গানটি না গেয়ে নিজ আসনে বসে থাকেন। বিজেপি কাউন্সিলররা এর তীব্র প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ফৌজিয়া শেখ পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, কোন আইনের ভিত্তিতে পুরসভায় এই গান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

ধর্মীয় যুক্তি ও বিতর্কিত দাবি

অধিবেশন কক্ষের বাইরে কাউন্সিলর রুবিনা ইকবাল সরাসরি ধর্মীয় অনুশাসনের দোহাই দিয়ে তার অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দেন। তার মূল দাবিগুলো হলো:

  • ইসলাম ধর্মে আল্লাহ ছাড়া আর কারোর উপাসনা বা বন্দনা করা নিষিদ্ধ।
  • বন্দে মাতরমের অর্থ জননীকে বন্দনা করা, যা কোরআন অনুযায়ী একজন মুসলমানের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।
  • ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে তারা এই গান বয়কট করছেন।

রাজনৈতিক সংঘাত ও আইনি পদক্ষেপ

এই মন্তব্যের পর বিজেপি কাউন্সিলররা ‘দেশদ্রোহী’ স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কাউন্সিলর ফৌজিয়াকে অধিবেশন কক্ষ থেকে বের করে দেন চেয়ারম্যান মুন্নালাল যাদব। এছাড়া জাতীয় গানকে অপমান এবং ধর্মীয় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিজেপি নেতৃত্ব।

কংগ্রেসের অস্বস্তি ও কড়া অবস্থান

নিজ দলের কাউন্সিলরের এমন মন্তব্যে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে কংগ্রেস হাইকমান্ড। দলের মুখপাত্র কে কে মিশ্র এই অবস্থানকে ‘রাজনৈতিক ব্ল্যাকমেল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, যারা জাতীয় কর্তব্য পালন করতে পারেন না এবং বন্দে মাতরম বলতে আপত্তি করেন, তাদের দলে তো বটেই, এমনকি দেশে থাকারও প্রয়োজন নেই। রুবিনা ইকবালকে দল থেকে বহিষ্কারের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে কংগ্রেস।

ভবিষ্যৎ সমীকরণ

রুবিনা ইকবাল পাল্টাহুঙ্কার দিয়ে জানিয়েছেন, দল থেকে বহিষ্কার করা হলে তিনি নির্দল হিসেবে বা আসাদউদ্দিন ওয়াইসির দল ‘মিম’-এ যোগ দিয়ে রাজনীতি করবেন। অন্যদিকে বিজেপি নেতারা ইতিহাসের উদাহরণ টেনে বলছেন, যেখানে আসফাকউল্লা খাঁর মতো বিপ্লবীরা বন্দে মাতরম গেয়ে ফাঁসির মঞ্চে গিয়েছিলেন, সেখানে বর্তমানের এই প্রতিবাদ স্রেফ সাম্প্রদায়িক বিভেদ তৈরির চেষ্টা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *