বন্ধ খনিজ সরবরাহ! ভারতের ‘অকৃত্রিম বন্ধু’ অঙ্গোলায় প্রাকৃতিক বিপর্যয়, চিন্তায় দিল্লি

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় যখন বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট ঘনীভূত, তখন ভারতের অন্যতম প্রধান ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকার দেশ অ্যাঙ্গোলা। ২০২৬ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাশিয়ার পরেই ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানির তৃতীয় বৃহত্তম উৎস হিসেবে উঠে এসেছে এই দেশটি। তবে বর্তমানে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়েছে অ্যাঙ্গোলার অর্থনীতি ও পরিবহন ব্যবস্থা, যা আন্তর্জাতিক খনিজ বাজারে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
বিপর্যস্ত লোবিটো করিডোর ও খনিজ সরবরাহ বন্ধ
অ্যাঙ্গোলার গুরুত্বপূর্ণ ‘লোবিটো করিডোর’ দিয়ে যাতায়াতকারী রেল পরিষেবা গত রবিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে নদীগুলোর জলস্তর বৃদ্ধি পেয়ে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। লোবিটো আটলান্টিক রেলওয়ে জানিয়েছে, কুবাল ও ক্যাম্বাম্বো স্টেশনের মাঝে হ্যালো নদীর ওপর নির্মিত সেতু এবং বেঙ্গুয়েলার কাছে কাইয়াকো নদীর ওপরের একটি সেতু প্লাবিত হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
খনিজ বাণিজ্যে এই রেললাইনের গুরুত্ব
এই রেললাইনটি কেবল যাত্রী পরিবহনের মাধ্যম নয়, বরং এটি তামা এবং কোবাল্টের মতো অতি প্রয়োজনীয় খনিজ আকরিক রপ্তানির প্রধান ধমনী। কেন এই রুটটি গুরুত্বপূর্ণ:
- কঙ্গো থেকে খনিজ সংগ্রহ: এটি গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো (DRC) থেকে আটলান্টিক উপকূলে অবস্থিত লোবিটো বন্দর পর্যন্ত তামা এবং কোবাল্ট দ্রুততম সময়ে পৌঁছে দেয়।
- দ্বিমুখী বাণিজ্য: এই ট্রেনের মাধ্যমেই কঙ্গোর খনিগুলোতে সালফার এবং বন্দর থেকে বিভিন্ন কৃষি ও শিল্পজাত পণ্য সরবরাহ করা হয়।
- আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব: ২০২২ সালে ট্রাফিগুরা ও মোটা-এঙ্গিলের মতো বৈশ্বিক কনসোর্টিয়ামকে ৩০ বছরের জন্য এই রেল সংযোগ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের নেপথ্যে জলবায়ু পরিবর্তন
দক্ষিণ আফ্রিকা অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বন্যার সমস্যা ক্রমে তীব্রতর হচ্ছে। ভারী বর্ষণের ফলে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। এতে খনিজ উত্তোলনের সাথে যুক্ত শিল্পগুলো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।
ভারত ও অ্যাঙ্গোলা সম্পর্কের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
ভারত ও অ্যাঙ্গোলার কূটনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। ১৭৬১ সাল থেকেই দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের সূত্রপাত ঘটে, যখন উভয় দেশই পর্তুগিজ শাসনের অধীনে ছিল। ভারত শুরু থেকেই অ্যাঙ্গোলার স্বাধীনতা সংগ্রামকে সমর্থন করে এসেছে এবং ১৯৮৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। বর্তমান জ্বালানি সংকটে অ্যাঙ্গোলার তেল সরবরাহ ভারতকে বড় ধরনের স্বস্তি দিয়েছিল, কিন্তু এখন দেশটি নিজেই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মোকাবিলা করছে।
একঝলকে
- ভারতের তেল আমদানিতে অ্যাঙ্গোলার অবস্থান ২০২৬ সালে তৃতীয়।
- প্রবল বৃষ্টির কারণে অ্যাঙ্গোলার রেল পরিষেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত।
- লোবিটো করিডোর বন্ধ হওয়ায় তামা ও কোবাল্ট সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
- বন্যায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ রেল সেতু প্লাবিত হয়েছে।
- জলবায়ু পরিবর্তন এই অঞ্চলের পরিবহন ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।