বর্ডার-গাভাসকর ট্রফিতে ব্রাত্য ইডেন, ঐতিহ্যের বদলে কি গুরুত্ব পাচ্ছে রাজনীতি?

আসন্ন বর্ডার-গাভাসকর ট্রফির সূচি ঘোষণায় হতাশ কলকাতা ও মুম্বইয়ের ক্রিকেট প্রেমীরা। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ভারতের এই হাই-ভোল্টেজ সিরিজের পাঁচটি টেস্টের একটিও পায়নি ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেনস বা ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম। পরিবর্তে ম্যাচ আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে আমদাবাদ, নাগপুর ও রাঁচির মতো শহর। ২০০১ সালের ঐতিহাসিক ইডেন টেস্টের স্মৃতি আজও অমলিন থাকলেও, বিসিসিআইয়ের বর্তমান তালিকায় ব্রাত্য রয়ে গেল তিলোত্তমার এই আইকনিক ভেন্যু।
বোর্ডের দাবি, ক্রিকেটের প্রসারে দেশের প্রতিটি কোণে ম্যাচ পৌঁছে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। তবে সমালোচকদের মতে, আইসিসি চেয়ারম্যান ও বিসিসিআই সচিবের জন্মভিটে হওয়ার সুবাদেই আমদাবাদ ও আসাম বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে। গুয়াহাটির মতো নতুন ভেন্যুতে পরিকাঠামোগত সমস্যার কারণে অনেক সময় খেলোয়াড়রা প্রতিকূলতার মুখে পড়ছেন। তবুও ইডেনের মতো আবেগ ও ঐতিহ্যের মাঠকে বাদ দিয়ে কেন নতুন কেন্দ্রকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, লর্ডস বা এমসিজি-র মতো ইডেনও ভারতীয় ক্রিকেটের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কেবলমাত্র ‘বিস্তারে’র দোহাই দিয়ে এই ঐতিহ্যকে কোণঠাসা করা হলে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হতে পারে। নতুন দর্শক তৈরির প্রচেষ্টায় কি তবে মাঠের নিজস্ব চরিত্র ও ‘হোম অ্যাডভান্টেজ’ হারিয়ে যাচ্ছে? বিসিসিআইয়ের এই পরিকল্পিত পরিবর্তনের নেপথ্যে নিছক খেলা নাকি গূঢ় রাজনীতি রয়েছে, তা নিয়ে এখন তুঙ্গে বিতর্ক।