বর্ধমান দক্ষিণে বিজেপির তিন নেতার টিকিট যুদ্ধ চরমে নিচুতলার কর্মীদের ক্ষোভ বাড়িয়ে বিপাকে গেরুয়া শিবির

বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হওয়া নিয়ে বিজেপির অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্যে। ভোটের দামামা বাজার আগেই টিকিট পাওয়ার লড়াইয়ে নেমেছেন দলের তিন প্রভাবশালী নেতা। এই তিন নেতার অনুগামীরা নিজেদের মতো করে প্রচার শুরু করলেও দলের নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ।
দলীয় সূত্রে খবর, টিকিট পাওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন এক চিকিৎসক নেতা, যিনি ইতিমধ্যেই রাজ্য নেতাদের সঙ্গে নিজের ছবি দিয়ে পোস্টার রাজনীতি শুরু করেছেন। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছেন বিজেপির এক প্রাক্তন জেলা সভাপতি এবং আরএসএস ঘনিষ্ঠ এক প্রাক্তন সেনাকর্মী। এই তিন নেতার অনুগামীরা একে অপরকে টেক্কা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
বিজেপির জেলা স্তরের এক নেতার মতে, টিকিট পাওয়ার জন্য এই অতি আত্মবিশ্বাস দলের ক্ষতি করছে। তিনি জানান, অতীতেও দেখা গিয়েছে যারা আগেভাগে প্রচার চালিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত তারা টিকিট পাননি। এবার কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং বিভিন্ন সমীক্ষক সংস্থার রিপোর্টের ভিত্তিতেই প্রার্থী চূড়ান্ত হবে, কোনো ব্যক্তিগত প্রভাব কাজে আসবে না।
শহর বিজেপির সাংগঠনিক অবস্থা বর্তমানে বেশ নড়বড়ে। সম্প্রতি কার্জন গেটে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা এবং দিলীপ ঘোষের উপস্থিতিতে আয়োজিত রথযাত্রা কর্মসূচিতে আশানুরূপ ভিড় না হওয়ায় দলের অন্দরে সমালোচনা শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংগঠন শক্তিশালী করার বদলে নেতাদের টিকিটের লড়াই সাধারণ কর্মীদের মনোবল ভেঙে দিচ্ছে।
অন্যদিকে, এই কোন্দল নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল কংগ্রেস। বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস বলেন, বিজেপি আগে নিজেদের ঝগড়া মেটাক, তারপর লড়াইয়ের কথা ভাববে। মানুষ উন্নয়ন দেখেই তৃণমূলকে ভোট দেবে। তবে বিজেপি নেতা রাজু পাত্র দাবি করেছেন, প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়টি রাজ্য নেতৃত্বের হাতে এবং তাদের মূল লক্ষ্য দলকে জেতানো। প্রার্থী কে হবেন তা নিয়ে জল্পনা থাকলেও বর্ধমান দক্ষিণে বিজেপির অন্তর্কলহ এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।