বহরমপুরে অধীর চৌধুরীকে ঘিরে তৃণমূলের গোব্যাক স্লোগান, তুঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনা

শুক্রবার রাতে বহরমপুর শহরের আব্দুস সামাদ রোড সংলগ্ন এলাকায় কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরীকে লক্ষ্য করে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ‘গোব্যাক’ স্লোগান দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জেলা কংগ্রেসের এক অসুস্থ কর্মীকে হাসপাতালে দেখে ফেরার পথেই এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হন বহরমপুরের বর্তমান সাংসদ।
জানা গিয়েছে, আব্দুস সামাদ রোডের একটি নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন এক দলীয় নেতাকে দেখতে গিয়েছিলেন অধীর চৌধুরী। সেখান থেকে বেরিয়ে আসার সময় তৃণমূল কংগ্রেসের একদল নেতা ও কর্মী তাঁকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন এবং ‘গোব্যাক’ স্লোগান দেন। এই আকস্মিক ঘটনায় এলাকায় সাময়িক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, যদিও নিরাপত্তারক্ষীদের তৎপরতায় বড় কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, অধীর চৌধুরী এলাকার উন্নয়নের পরিবর্তে বিভাজনের রাজনীতি করছেন। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর আবুল কাউসার এই বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তাঁর সাফ কথা, অধীর চৌধুরী ওই নির্দিষ্ট ওয়ার্ডে যখনই আসবেন, তখনই তাঁকে সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধের মুখে পড়তে হবে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই বিক্ষোভকে রাজনৈতিক লড়াইয়ের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে পাল্টা সরব হয়েছে কংগ্রেস শিবির। কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, লোকসভা নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত জেনে তৃণমূল এখন মরিয়া হয়ে এই ধরনের অগণতান্ত্রিক আচরণের আশ্রয় নিচ্ছে। বহরমপুরে অধীর চৌধুরীর জনপ্রিয়তায় ভীত হয়েই শাসকদল পেশিশক্তি ও স্লোগান দিয়ে তাঁকে আটকানোর চেষ্টা করছে বলে কংগ্রেসের অভিযোগ। তাঁরা মনে করছেন, এই ঘটনা সাধারণ মানুষের কাছে তৃণমূলের ভাবমূর্তি আরও ক্ষুণ্ণ করবে।
নির্বাচনী আবহে বহরমপুর বরাবরই স্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে পরিচিত। ভোটের প্রচার ও জনসংযোগের মাঝে এই ধরনের স্লোগান রাজনীতি ও পালটা স্লোগান পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক শিষ্টাচার ভুলে দুই শিবিরের এই সংঘাত তৃণমূল ও কংগ্রেসের মধ্যেকার দূরত্বকে যেমন প্রকট করছে, তেমনি ভোটারদের মধ্যেও এর প্রতিক্রিয়া পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বহরমপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ঘটনা নিয়ে চাপানউতোর অব্যাহত। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন নজর রাখছে যাতে পরবর্তী সময়ে এই ধরনের বিক্ষোভ কোনো বড়সড় সংঘর্ষের রূপ না নেয়। নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, বহরমপুরে এই রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা যে আরও তীব্র হবে, শুক্রবারের এই ঘটনাই তার ইঙ্গিত দিচ্ছে।