বহরমপুরে ‘গুরু-শিষ্য’ দ্বৈরথ: অধীরকে হারাতে মরিয়া তৃণমূলের নাড়ুগোপাল

মুর্শিদাবাদের বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রে আসন্ন নির্বাচনে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস তাদের প্রার্থী হিসেবে বহরমপুর পুরসভার চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখার্জির নাম ঘোষণা করায় লড়াইটি এখন ‘গুরু বনাম শিষ্য’ হিসেবে চর্চিত হচ্ছে। যদিও এআইসিসি-র পক্ষ থেকে অধীর রঞ্জন চৌধুরীর নাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি, তবে জেলা কংগ্রেস নিশ্চিত করেছে যে তিনি নিজের খাসতালুকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
তৃণমূল শিবিরের দাবি, ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে ইউসুফ পাঠানের জয় অধীর চৌধুরীর অপরাজেয় থাকার ‘মিথ’ ভেঙে দিয়েছে। শাসক দলের রণকৌশল অনুযায়ী, শহরের ভোটের পাশাপাশি গ্রামীণ অঞ্চলের লিড নাড়ুগোপাল মুখার্জির জয় নিশ্চিত করবে। অন্যদিকে, অধীর চৌধুরী জনসংযোগ শুরু করে দিয়েছেন এবং নিজেকে বহিরাগত নয় বরং দীর্ঘদিনের জনসেবক হিসেবে তুলে ধরছেন। উন্নয়নের প্রশ্নে তৃণমূল ও দুর্নীতির অভিযোগে কংগ্রেস—উভয় পক্ষই এখন সরগরম।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত নির্বাচনে বিজেপির সুব্রত মৈত্র জয়ী হলেও এবার মূল লড়াই কংগ্রেস ও তৃণমূলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা প্রবল। তৃণমূল প্রার্থী নাড়ুগোপাল মুখার্জি ‘গুরু-শিষ্য’ তত্ত্ব অস্বীকার করলেও স্থানীয় নেতৃত্ব আত্মবিশ্বাসী যে, পুরোনো রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে নতুন প্রজন্মের জয় হবে। অধীরের ‘রবিনহুড’ ইমেজ বনাম তৃণমূলের উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে বহরমপুরের নির্বাচনী লড়াই এখন তুঙ্গে।