বাঁকে বিহারী মন্দিরের ঐতিহ্যে হস্তক্ষেপ নয়: বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

বাঁকে বিহারী মন্দিরের ঐতিহ্যে হস্তক্ষেপ নয়: বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

বৃন্দাবনের বিশ্ববিখ্যাত শ্রী বাঁকে বিহারী মন্দিরের শতাব্দীপ্রাচীন ধর্মীয় রীতি ও ঐতিহ্যে কোনো ধরনের প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট করেছে যে, মন্দিরের বর্তমান ব্যবস্থায় কোনো মৌলিক বা কাঠামোগত পরিবর্তন আনার পক্ষপাতি নয় আদালত।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও বর্তমান পরিস্থিতি

মন্দির পরিচালনা কমিটির আবেদনের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে। মূলত, এলাহাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির কিছু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মন্দিরের সেবাইত ও পুরোহিতরা। তাদের অভিযোগ ছিল, কমিটির সিদ্ধান্তগুলো মন্দিরের প্রাচীন ধর্মীয় আচারে হস্তক্ষেপ করছে।

আদালত জানিয়েছে, সম্প্রতি জমা পড়া স্ট্যাটাস রিপোর্ট খতিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে দুই সপ্তাহ সময় দেওয়া প্রয়োজন। এরপরই পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশে আদালত স্পষ্ট করেছে যে, ঐতিহ্যের মর্যাদা রক্ষা করাই হবে প্রধান লক্ষ্য।

বিতর্কের মূলে যে বিষয়গুলো

মন্দির পরিচালনা এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটির কর্মকাণ্ড নিয়ে বেশ কিছু বিষয়ে আপত্তি তুলেছেন আবেদনকারীরা:

  • দর্শনের সময় পরিবর্তন: মন্দিরের প্রথাগত সময়সূচী পরিবর্তনের চেষ্টা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
  • দেহরি পূজা: প্রাচীন ‘দেহরি পূজা’ বন্ধ করার প্রশাসনিক নির্দেশের বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন সেবাইতরা।
  • ফুল বাংলা সেবা: এই বিশেষ সেবার জন্য সেবাইত গোস্বামী সম্প্রদায়ের ওপর অতিরিক্ত উচ্চ ফি ধার্য করার বিষয়টিকেও চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে।

আইনি প্রেক্ষাপট

উল্লেখ্য, উত্তরপ্রদেশ সরকার কর্তৃক প্রস্তাবিত ‘শ্রী বাঁকে বিহারী জি মন্দির ট্রাস্ট অর্ডিন্যান্স, ২০২৫’-এর কিছু অংশের ওপর আগেই স্থগিতাদেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। মন্দিরের দৈনন্দিন কাজের তদারকির জন্য এলাহাবাদ হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অশোক কুমারের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। আবেদনকারীদের দাবি, এই কমিটি তাদের প্রশাসনিক ক্ষমতার ভুল ব্যাখ্যা করে ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে।

অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল কে এম নটরাজ আদালতে জানান, কমিটি আদালতের নির্দেশ মেনেই কাজ করতে আগ্রহী এবং কোনো বিরোধী অবস্থান গ্রহণ করবে না। আগামী দুই সপ্তাহ পর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

একঝলকে

  • আদালতের অবস্থান: বাঁকে বিহারী মন্দিরের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় রীতিতে কোনো বদল আনা হবে না।
  • বিবাদমান বিষয়: দর্শন সময়, পূজা পদ্ধতি এবং সেবার ফি নিয়ে কমিটির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা।
  • পরবর্তী পদক্ষেপ: স্ট্যাটাস রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে দুই সপ্তাহ পর পুনরায় শুনানি হবে।
  • মূল বার্তা: প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখলেও ধর্মীয় ঐতিহ্যের মৌলিক কাঠামো অক্ষুণ্ণ রাখা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *