বাংলাদেশি ডেরায় বসে ভারতে অস্ত্র পাচার, শাহবাজ আনসারির বিরুদ্ধে ইউএপিএ জারি

বাংলাদেশি ডেরায় বসে ভারতে অস্ত্র পাচার, শাহবাজ আনসারির বিরুদ্ধে ইউএপিএ জারি

দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ দেশের কুখ্যাত অস্ত্র সরবরাহকারী শাহবাজ আনসারির বিরুদ্ধে কঠোর বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন বা ইউএপিএ (UAPA) প্রয়োগ করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে আত্মগোপন করে থাকা শাহবাজের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলো। সম্প্রতি উদ্ধার হওয়া বিদেশি অস্ত্রের একটি বিশাল চালানের তদন্তে নেমে এই আন্তঃদেশীয় নেটওয়ার্কের হদিস পায় পুলিশ।

গত ২৫ মার্চ দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ ব্রাজিল, জার্মানি এবং তুরস্ক থেকে আসা একে-৪৭ ও অত্যাধুনিক পিস্তলসহ অস্ত্রের একটি বড় চালান বাজেয়াপ্ত করে। এই ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, বাংলাদেশে বসে পুরো সিন্ডিকেটটি নিয়ন্ত্রণ করছিল শাহবাজ। তার নির্দেশেই এই মারণাস্ত্রগুলো ভারতে পাঠানো হয়েছিল।

তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর সহায়তায় এই চোরাচালান চলত। বিদেশি অস্ত্রগুলো প্রথমে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হতো, সেখান থেকে যন্ত্রাংশ খুলে স্ক্র্যাপ হিসেবে নেপালে পৌঁছাত। পরবর্তীতে সেই অস্ত্র পুনরায় জোড়া লাগিয়ে সোনৌলি সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার করা হতো। শাহবাজের শ্যালক ইমরান এবং ভাগ্নে কামরান এই প্রক্রিয়ায় মূল ভূমিকা পালন করত।

উত্তর প্রদেশের বুলন্দশহরের বাসিন্দা শাহবাজ আনসারি ভারতের অপরাধ জগতের অন্যতম বিপজ্জনক নাম। সিধু মুসেওয়ালা হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এর আগে এনআইএ তাকে গ্রেফতার করেছিল। তবে স্ত্রীর অসুস্থতার অজুহাতে প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার পর সে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে সেখান থেকেই সে ভারতের বিভিন্ন কুখ্যাত গ্যাংস্টার ও জঙ্গি গোষ্ঠীর কাছে অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র সরবরাহ করছে।

সম্প্রতি দিল্লি বিমানবন্দর থেকে বিদেশে পালানোর সময় শাহবাজের প্রধান সহযোগী ইমরান ও কামরানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের ব্যবহৃত একটি বিশেষ গাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। গাড়িটিতে অস্ত্র লুকানোর জন্য বিশেষ গোপন কুঠুরি তৈরি করা হয়েছিল। এই গ্রেফতারির ফলে শাহবাজের শক্তিশালী মডিউলটি বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে বলে মনে করছে তদন্তকারীরা।

শাহবাজের এই অস্ত্র সিন্ডিকেটে যারা যুক্ত বা যারা তার থেকে অস্ত্র কিনেছে, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই ইউএপিএ ধারায় মামলা যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে অভিযুক্তদের জামিন পাওয়ার প্রক্রিয়া কার্যত আসাম্ভব হয়ে পড়বে। সংগঠিত অপরাধ এবং দেশবিরোধী কার্যক্রম রুখতে দিল্লি পুলিশের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *