বাংলাদেশে ফের হিন্দু-অত্যাচার!

বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতি। বিএনপি নেতা তারেক রহমান বারবার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নিয়ে উঠতে শুরু করেছে বড়সড় প্রশ্ন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা যেন থামছেই না। সম্প্রতি পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানি উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নের উত্তর বাড়ইখালি গ্রামে ঘটে যাওয়া এক নৃশংস ঘটনা ফের একবার নাড়িয়ে দিয়েছে সাধারণ মানুষের বিবেককে।
প্রকাশ্যে দিবালোকে তণ্ডব ও অগ্নিসংযোগ
ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার, যখন সাতসকালে একদল দুষ্কৃতী চড়াও হয় উত্তর বাড়ইখালি গ্রামের হিন্দু বসতবাড়িতে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কোনো উসকানি ছাড়াই একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত রণজিৎ দাসের (৪৫) বাড়িতে ঢুকে পড়ে। প্রথমে তারা ঘরের ভেতর যথেচ্ছ লুটপাট চালায় এবং মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেয়। এরপর উন্মত্ত অবস্থায় পুরো বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয় তারা। আগুনের লেলিহান শিখায় মুহূর্তের মধ্যেই ছাই হয়ে যায় রণজিৎ দাসের সর্বস্ব।
মালিককে নির্মম মারধর
আক্রান্ত বাড়ির মালিক রণজিৎ দাস যখন নিজের ঘর ও সম্পদ রক্ষার চেষ্টা করেন, তখন তাকে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করা হয়। দুষ্কৃতীদের পৈশাচিক হামলায় গুরুতর আহত হন তিনি। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করছেন।
প্রশ্নের মুখে প্রশাসনের ভূমিকা
তারেক রহমান ও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব বারবার হুঙ্কার দিচ্ছেন যে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের গায়ে হাত দিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু তৃণমূল স্তরে কেন এই নির্দেশ কার্যকর হচ্ছে না, তা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। ইন্দুরকানির এই হামলার পর প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে হবে এবং সংখ্যালঘুদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।