বাংলায় কি ভোটার তালিকায় বড়সড় কারচুপি? সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে জরুরি তলব শমীকের

বাংলায় কি ভোটার তালিকায় বড়সড় কারচুপি? সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে জরুরি তলব শমীকের

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা যাচ্ছে, সংশোধনের পর রাজ্য থেকে এক লপ্তে ৬১ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া নিয়ে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরাসরি কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি তথা সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ভারতের মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারকে সশরীরে রাজ্যে এসে তদন্ত করার আর্জি জানিয়েছেন তিনি।

বিএলও এবং প্রশাসনের ওপর ক্ষোভ

রবিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে শমীক ভট্টাচার্য অভিযোগ করেন, রাজ্যের প্রশাসনিক পরিকাঠামো এবং বুথ লেভেল অফিসাররা (BLO) সম্পূর্ণভাবে শাসকদলের নির্দেশমতো কাজ করছেন। তাঁর দাবি, অনেক ক্ষেত্রে বিএলও-দের ভয় দেখিয়ে বা প্রভাব খাটিয়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিতে বাধ্য করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “বর্তমানে দেশের ১২টি রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ চলছে, কিন্তু কোথাও বিডিও অফিসে বিক্ষোভ বা ভাঙচুরের খবর নেই। তবে কেন শুধু পশ্চিমবঙ্গেই এমন অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে?” শমীক বাবুর সাফ কথা, যদি ৪৪,০০০ বৈধ নাম তালিকা থেকে বাদ যায়, তবে তার দায় বিএলও-দেরই নিতে হবে।

কি বলছে নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান?

রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দপ্তর থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সংশোধনের আগে পশ্চিমবঙ্গের মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৭,৬৬,৩৭,৫২৯ জন। প্রক্রিয়া শেষে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৭,০৪,৫৯,২৮৪ জনে। অর্থাৎ, তালিকা থেকে মোট ৬১,৭৮,২৪৫ জন ভোটার কমেছে।

কমিশনের প্রেস নোট অনুযায়ী, নাম বাদ দেওয়ার কারণগুলি হলো:

  • মৃত ভোটার: ২৪,১৬,৮৫২ জন।
  • অনুপস্থিত ভোটার: ১২,২০,০৩৯ জন।
  • স্থানান্তরিত (Migrated): ১৯,৮৮,০৭৬ জন।
  • অন্যান্য কারণ: প্রায় ১.৯৬ লক্ষ নাম।

অন্যদিকে, নতুন করে ১,৮২,০৩৬ জন ভোটারকে তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে এবং ফর্ম ৮-এর মাধ্যমে আরও ৬,৬৭১ জনের নাম নথিভুক্ত হয়েছে।

স্বচ্ছতার দাবি কমিশনের

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এই বিশাল কর্মযজ্ঞে ১০০ শতাংশ ভৌত যাচাই বা ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশন করা হয়েছে। বিএলও-রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই মৃত, স্থায়ীভাবে পরিযায়ী এবং ডুপ্লিকেট নামগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে বলে কমিশনের দাবি। বর্তমানে রাজ্যের ভোটার তালিকায় লিঙ্গ অনুপাত (Gender Ratio) ৯৫৬-তেই স্থিতিশীল রয়েছে।

তবে বিজেপির দাবি, এই প্রক্রিয়ার আড়ালে অনেক প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। শমীক ভট্টাচার্যের আর্জি, “জ্ঞানেশ কুমার তাঁর পুরো টিম নিয়ে বাংলায় আসুন এবং প্রতিটি অভিযোগের শুনানি করুন।” নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকার এই রদবদল নিয়ে এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *