বাংলায় পরিবর্তন ও পদ্ম ফোটা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, রামপুরহাটে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর হুঙ্কার

বাংলায় পরিবর্তন ও পদ্ম ফোটা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, রামপুরহাটে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর হুঙ্কার

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বীরভূমের রাজনৈতিক পারদ এখন মধ্যগগনে। বৃহস্পতিবার বীরভূম জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে শাসক ও বিরোধী শিবিরের প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিউড়ি থেকে রামপুরহাট পর্যন্ত ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। তবে এদিনের সবথেকে বড় চমক ছিল রামপুরহাটে বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝির উপস্থিতি। ওড়িশার সাফল্যের মডেল তুলে ধরে তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, এবার বাংলাতেও পরিবর্তনের হাওয়া বইছে এবং ডবল ইঞ্জিন সরকার গঠন নিশ্চিত।

বৃহস্পতিবার রামপুরহাট মহকুমা শাসকের দপ্তরে বিজেপি প্রার্থী ধ্রুব সাহা, নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়, অনিল সিং এবং রিঙ্কি ঘোষের মনোনয়ন পর্বে সঙ্গী হন মোহন চরণ মাঝি। আকাশপথে বীরভূমে পৌঁছে তিনি রামপুরহাট শহরের পাঁচমাথা মোড় থেকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ করতে করতে হেঁটে মহকুমা শাসকের অফিসে যান। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর এই পদযাত্রা বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা সৃষ্টি করে। ওড়িশার মতো বাংলাতেও বিজেপি সরকার গঠন করে উন্নয়নের জোয়ার আনবে বলে তিনি দাবি করেন।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের বর্তমান শাসকদলের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, পশ্চিমবঙ্গ বর্তমানে দুর্নীতির পাহাড়ে পরিণত হয়েছে এবং পুলিশ প্রশাসন এখানে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারছে না। এসআইআর প্রসঙ্গ টেনে তিনি স্পষ্ট জানান যে, কোনো প্রকৃত ভারতীয়র নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়া অনুচিত, তবে অনুপ্রবেশকারীদের ভারতে থাকার কোনো অধিকার নেই। ওড়িশায় বাঙালিদের হেনস্থা নিয়ে তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ নস্যাৎ করে তিনি একে রাজনৈতিক চক্রান্ত হিসেবে অভিহিত করেন।

অন্যদিকে, বীরভূমের জেলা সদর সিউড়িতেও এদিন ছিল মনোনয়ন জমার হিড়িক। বিশাল মিছিল করে মনোনয়ন জমা দেন সিউড়ির বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। আত্মবিশ্বাসী জগন্নাথবাবু জানান যে, মানুষের সমর্থন দেখে তিনি জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত। একই দিনে সিউড়ি কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট প্রার্থী উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়ও তাঁর মনোনয়ন দাখিল করেন। উভয় শিবিরের শক্তিবৃদ্ধিতে সিউড়ির রাস্তা এদিন কার্যত রাজনৈতিক মিছিলে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।

নির্বাচনী লড়াইয়ের এই উত্তাপে বীরভূমের হেভিওয়েট তৃণমূল নেতাদেরও তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাজল শেখের মতো নেতৃত্বরা এদিন দলীয় প্রার্থীদের হয়ে ময়দানে নামেন। বীরভূমে একদিকে ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিজেপির পরিবর্তন আনার ডাক, অন্যদিকে তৃণমূলের ঘর বাঁচানোর লড়াই—সব মিলিয়ে জেলার রাজনৈতিক সমীকরণ এখন অত্যন্ত জটিল। মনোনয়ন পর্বের এই শক্তি প্রদর্শন আগামী দিনে জেলার নির্বাচনী ফলাফল কোন দিকে যাবে, তার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *