বাংলায় বিজেপির জয় নিশ্চিত অন্তত ১৭৭ আসনে, জয়ের দাবি শুভেন্দু অধিকারীর

পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বড়সড় রাজনৈতিক ভবিষ্যৎবাণী করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে এক দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে তিনি দাবি করেন, এবারের নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি অন্তত ১৭৭টি আসনে জয়লাভ করে রাজ্যে সরকার গঠন করবে। তাঁর মতে, গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ৭৭টি আসন পেলেও এবার সেই সংখ্যা একশো বেড়ে ১৭৭-এ গিয়ে ঠেকবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দেওয়া ১৭০ আসনের লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ফলাফল করার ব্যাপারে তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী।
শুভেন্দু অধিকারীর এই আত্মবিশ্বাসের মূলে রয়েছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’। বিরোধী দলনেতার দাবি, এই সংশোধনের ফলে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় এক কোটি ভুয়ো নাম বাদ গেছে, যার মধ্যে হাজার হাজার অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর নামও রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বিগত নির্বাচনগুলোতে মৃত ও অবৈধ ভোটারদের নাম ব্যবহার করে তৃণমূল কংগ্রেস যে ছাপ্পা ভোট দেওয়ার সুযোগ পেত, এবার নির্বাচন কমিশন সেই পথ বন্ধ করে দিয়েছে। সাত-আট দফার দীর্ঘ ভোটের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় থাকলে বিজেপির জয় অনিবার্য বলে তিনি মনে করেন।
নদীয়া জেলার ফলাফল প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি জানান, মহাপ্রভুর পুণ্যভূমি নদীয়ায় সনাতনী হিন্দুরা যেমন বিজেপির পাশে দাঁড়াবেন, তেমনই রাষ্ট্রবাদী মুসলিমদের ভোটও এবার পদ্ম শিবিরের ঝুলিতে আসবে। তাঁর মতে, সংখ্যালঘু ভোটাররা বুঝতে পেরেছেন তৃণমূল কংগ্রেস তাঁদের স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ। করিমপুর, নাকাশিপাড়া বা কালিগঞ্জের মতো কঠিন আসনগুলোতেও এবার বিজেপি বিপুল ভোটে জিতবে বলে তিনি ভবিষ্যৎবাণী করেন।
সামগ্রিক পরিস্থিতির বিশ্লেষণে শুভেন্দু জানান, এটি তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ বা ‘পার্সোনাল অবজারভেশন’। তবে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন। মূলত দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা—এই তিনটি বিষয়কেই এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তিনি। সব মিলিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের আগে শুভেন্দু অধিকারীর এই দাবি রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।