‘বাংলায় বিজেপি সরকার গড়বে আর বেছে বেছে বের করা হবে শেষ অনুপ্রবেশকারীকেও’, অমিত শাহের হুঙ্কার

নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৃহস্পতিবার ভারত-নেপাল সীমান্তের ‘লেটি’ এবং ‘ইন্দরবা’ বিওপি (BOP) উদ্বোধনের মঞ্চ থেকে পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে এক অত্যন্ত কড়া এবং বিস্ফোরক বার্তা দিয়েছেন তিনি। শাহ সরাসরি দাবি করেছেন, আগামী নির্বাচনে বাংলায় বিজেপির জয় কেবল সময়ের অপেক্ষা। আর ক্ষমতায় বসার পর গেরুয়া শিবিরের প্রথম এবং প্রধান কাজ হবে সীমান্ত সিল করা এবং প্রত্যেক অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে দেশ থেকে বিতাড়িত করা।
অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’
সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মানুষের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই কেবল ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। আমরা ভারতের মাটি থেকে প্রত্যেক অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে উপড়ে ফেলতে সংকল্পবদ্ধ।” তিনি অভিযোগ করেন যে, এই অনুপ্রবেশ কেবল দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি নয়, বরং এটি এদেশের গরিব মানুষের প্রাপ্য রেশন এবং কর্মসংস্থানও কেড়ে নিচ্ছে।
কড়া অ্যাকশন প্ল্যান এবং কড়া নির্দেশ
অমিত শাহ এই অনুপ্রবেশ রুখতে একটি বিস্তারিত ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন:
- আগামী তিন দিনের মধ্যে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ, জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক করা হবে।
- সীমান্তের ১০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে থাকা এলাকাগুলোতে বিশেষ চিরুনি তল্লাশি চালানো হবে।
- এসএসবি (SSB)-কে একটি বিশেষ এসওপি (SOP) বা নির্দেশিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে চোরাচালান ও অনুপ্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করা যায়।
রাজনৈতিক সমীকরণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত এলাকায় দাঁড়িয়ে শাহের এই কড়া অবস্থান আদতে বাংলার আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের সুর বেঁধে দিল। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ ও সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে মেরুকরণের রাজনীতি এবং অনুপ্রবেশ ইস্যুকে হাতিয়ার করেই যে বিজেপি এগোতে চাইছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ‘হুঙ্কার’ তারই প্রমাণ। শাহের এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই বাংলার রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর।