বাংলায় বোমা তৈরির কুটির শিল্প চলছে, সিউড়ির সভা থেকে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ মোদির

বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বীরভূমের সিউড়িতে আয়োজিত এক জনসভা থেকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার সিউড়ির প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের সমর্থনে আয়োজিত এই সভা থেকে মোদি অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গ বর্তমানে ‘বোমা তৈরির কুটির শিল্পে’ পরিণত হয়েছে। তাঁর দাবি, রাজ্যের অলিতে-গলিতে বিষাক্ত কাঁচা বোমা ও অস্ত্রের ভাণ্ডার গড়ে তোলা হচ্ছে। যেখানে দেশ প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ক্রমশ আত্মনির্ভর ও শক্তিশালী হয়ে উঠছে, সেখানে বাংলা বোমা তৈরির কারখানায় ভরে উঠছে বলে তিনি কটাক্ষ করেন।
বীরভূমের বগটুই কাণ্ডকে ‘মানবতার লজ্জা’ হিসেবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই জেলা এখন তৃণমূলের ‘মহা-জঙ্গলরাজ’-এর সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক গ্যাং-ওয়ার থেকে শুরু করে বালি ও পাথর লুঠ—সবই শাসকদলের নেতাদের আশীর্বাদে চলছে বলে তিনি অভিযোগ তোলেন। মোদির মতে, তৃণমূলের মদতেই প্রাকৃতিক সম্পদ লুণ্ঠিত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। বগটুইয়ের নৃশংসতা এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে হাতিয়ার করে তিনি জনমনে ক্ষোভ উসকে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
অনুপ্রবেশ ইস্যু নিয়েও এদিন অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলার মাটি অনুপ্রবেশকারীরা দখল করে নিচ্ছে এবং তৃণমূলের একাংশ তাদের জন্য জাল পরিচয়পত্র তৈরি করে দিচ্ছে। অনুপ্রবেশকারীদের দেশের নিরাপত্তার জন্য সবথেকে বড় বিপদ হিসেবে চিহ্নিত করে মোদি প্রতিশ্রুতি দেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে এই চক্রের মদতদাতাদের জেলে ভরা হবে। ‘অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ানো এবং মদতদাতাদের শাস্তি দেওয়া মোদির গ্যারান্টি’ বলে তিনি ঘোষণা করেন।
নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর কোচবিহারের পর এদিন সিউড়ি, হলদিয়া ও আসানসোলে ঝোড়ো প্রচার সারেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিটি সভা থেকেই তৃণমূল সরকারকে হঠানোর ডাক দিয়ে তিনি দাবি করেন, এই সরকারকে বিদায় করলেই বাংলার উন্নয়ন সম্ভব। নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের সম্পদ লুঠ—সব খাতের ‘বেছে বেছে হিসেব’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে মোদি আরও একবার স্পষ্ট করে দেন যে, আসন্ন নির্বাচনে দুর্নীতির বিরুদ্ধেই হবে তাঁদের মূল লড়াই।