বাংলায় ৫০০ অফিসার বদলি ও ভোটার তালিকায় নাম বাদ নিয়ে মুর্শিদাবাদে গর্জে উঠলেন মমতা

রাজ্যে চলমান ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার মুর্শিদাবাদের এক জনসভায় তিনি অভিযোগ করেন, ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়ে আসলে সাধারণ নাগরিকদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমানে বিচারবিভাগের তত্ত্বাবধানে এই সংশোধন প্রক্রিয়া চলার ফলে রাজ্যের মোট ভোটারের সংখ্যা ৭.৬৬ কোটি থেকে কমে ৭.০৪ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। ৬১ লক্ষেরও বেশি নাম বাদ পড়াকে তিনি নাগরিকদের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবেই বর্ণনা করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, বাংলার প্রশাসনিক কাজ স্তব্ধ করে দিতে পরিকল্পিতভাবে প্রায় ৫০০ জন সরকারি অফিসারকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, এর ফলে উন্নয়নমূলক কাজ সাময়িকভাবে ধীরগতি হতে পারে, তবে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সব পরিষেবা আবারও স্বাভাবিক হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের স্বার্থরক্ষায় ভবিষ্যতে রাজ্যে একটি পৃথক বাজেট পেশ করার গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাও করেন তিনি। প্রশাসনিক বাধা সত্ত্বেও কৃষিজীবী মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আসন্ন নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রটি এখন আলোচনার কেন্দ্রে। ২০১১ সাল থেকে এই আসনের বিধায়ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবারও জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী। তবে গত বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে তাঁর কাছে পরাজিত করা বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী এবার সরাসরি মমতার বিরুদ্ধে এই কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটার তালিকার ব্যাপক রদবদল এবং প্রশাসনিক রদবদলের এই টানাপোড়েনের মধ্যেই ভবানীপুরের হেভিওয়েট লড়াইকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ ক্রমশ চড়ছে।