বাংলার কোণায় কোণায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে টাটা বাই বাই বলার ডাক অমিত শাহের

আগামী ১৫ দিন পশ্চিমবঙ্গেই ঘাঁটি গাড়ছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বৃহস্পতিবার ভবানীপুরে এক বর্ণাঢ্য জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এই ঘোষণা করেন। মূলত ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল রাজ্যে হতে চলা দুই দফার বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার কৌশল সাজাতে এবং দলীয় কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতেই তাঁর এই ম্যারাথন সফর। শাহ স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভোটের লড়াইয়ে জয় নিশ্চিত করতে তিনি মানুষের খুব কাছাকাছি থাকবেন।
এদিন ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন জমা দেওয়ার কর্মসূচিতে অংশ নেন অমিত শাহ। শুভেন্দু ছাড়াও স্বপন দাশগুপ্ত, শত্রুঞ্জ ঘোষ এবং সন্তোষ পাঠকও এদিন তাঁদের নিজ নিজ কেন্দ্রের জন্য মনোনয়ন দাখিল করেন। এই হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন শুভেন্দু। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এই মনোনয়ন পেশ বিজেপির জন্য এক বিশাল শক্তিপ্রদর্শন হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।
জনসভা থেকে তৃণমূল নেত্রীকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে অমিত শাহ বলেন, পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি প্রান্ত থেকে আজ পরিবর্তনের সুর শোনা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ এখন সমস্বরে বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টাটা বাই-বাই। তাঁর দাবি, তৃণমূল সরকারের আমলে দুর্নীতি, তোলাবাজি এবং বেকারত্ব চরমে পৌঁছেছে। বাংলার যুবসমাজ কাজের অভাবে দিশেহারা এবং মহিলারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে রাজ্যে পরিবর্তন আনা একান্ত প্রয়োজন।
রাজ্যের জনবিন্যাস পরিবর্তন এবং অনুপ্রবেশ ইস্যু নিয়েও কড়া বার্তা দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, সাধারণ মানুষ চাইছেন পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত সম্পূর্ণ সিল করা হোক এবং অনুপ্রবেশকারীদের দেশ থেকে বিতাড়িত করা হোক। তাঁর মতে, বর্তমান সরকার এই সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ এবং সাধারণ মানুষ এখন এই গুন্ডাগিরি ও অরাজকতার অবসান চাইছে। বাংলার উন্নয়নের স্বার্থে বিজেপি সরকার গড়া এখন সময়ের দাবি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে, নির্বাচনের উত্তাপ বাড়ার সাথে সাথে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে বাকযুদ্ধ তুঙ্গে উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে ভোটার তালিকায় কারচুপি ও আধিকারিকদের অন্যায় বদলি করাচ্ছে। পাল্টা অভিযোগে বিজেপি বলছে, শাসক দল রাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশে মদত দিচ্ছে। এই রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যেই ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম—উভয় কেন্দ্রেই লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। ২০২১ সালের স্মৃতি উসকে দিয়ে ভবানীপুরের লড়াই এবার কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।