বাংলার মসনদে কার দাপট? ম্যাট্রিজের জনমত সমীক্ষায় তৃণমূল-বিজেপি হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত

আসন্ন ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল ‘ম্যাট্রিজ’ (Matrize)-এর সাম্প্রতিক জনমত সমীক্ষা। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং প্রধান বিরোধী দল বিজেপির মধ্যে লড়াই এখন আক্ষরিক অর্থেই কাঁটায় কাঁটায়। সমীক্ষা অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস ৪৩ শতাংশ ভোট পেয়ে ১৪০ থেকে ১৬০টি আসন জিততে পারে। অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে বিজেপি ৪১ শতাংশ ভোট পেয়ে ১৩০ থেকে ১৫০টি আসনে জয়লাভ করার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বাম-কংগ্রেস ও অন্যান্য শিবিরের ঝুলিতে যেতে পারে ৮ থেকে ১৬টি আসন।
২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সরকার গড়তে প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। ম্যাট্রিজের পরিসংখ্যান বলছে, দুই প্রধান প্রতিপক্ষের ভোটের ব্যবধান মাত্র ২ শতাংশ। এই সামান্য ব্যবধান নির্বাচনের আগে যেকোনো মুহূর্তে পাল্টে দিতে পারে রাজনৈতিক চিত্রপট। ফলে ১৪৮-এর ‘ম্যাজিক ফিগার’ ছোঁয়ার দৌড়ে দুই পক্ষই এখন সমানে সমান অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে। এই সমীক্ষা মূলত অঞ্চলভিত্তিক জনমতের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যা আগামী নির্বাচনের কঠিন লড়াইয়ের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ভৌগোলিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, দক্ষিণবঙ্গের ১৮৩টি আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের আধিপত্য বজায় থাকার সম্ভাবনা প্রবল। সেখানে ঘাসফুল শিবির ৯৫-১০০টি আসন পেতে পারে, যেখানে বিজেপির সম্ভাবনা ৭৫-৮০টি। রাঢ় অঞ্চলের ৫৭টি আসনেও লড়াই হবে অত্যন্ত তীব্র; এখানে তৃণমূল ৪৩ শতাংশ এবং বিজেপি ৪২ শতাংশ ভোট পেতে পারে। তবে উত্তরবঙ্গের ৫৪টি আসনে চিত্রটি ভিন্ন। সেখানে প্রধান শক্তি হিসেবে বিজেপির দাপট অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত মিলেছে। পদ্ম শিবির উত্তরবঙ্গে ৩০-৩৩টি আসন পেতে পারে, যেখানে তৃণমূলের সম্ভাবনা ১৭-২০টি আসনের।
সামগ্রিকভাবে দক্ষিণবঙ্গ ও রাঢ় অঞ্চলে তৃণমূল এগিয়ে থাকলেও উত্তরবঙ্গে বিজেপির পাল্লা যথেষ্ট ভারী। ফলে আসন্ন নির্বাচনে কোনো দলই যে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করতে পারছে না, তা সমীক্ষায় স্পষ্ট। শেষ পর্যন্ত বাংলার সাধারণ ভোটাররা কোন মেরুতে আস্থা রাখবেন এবং ম্যাজিক ফিগার কার দখলে যাবে, তা নিয়েই এখন রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। এসইও ফ্রেন্ডলি এই প্রতিবেদনটি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।