বাংলার মসনদে বিজেপির মুখ কে? মোদীর সফরের মাঝেই বড় ইঙ্গিত দিলেন শমীক ভট্টাচার্য

বাংলার মসনদে বিজেপির মুখ কে? মোদীর সফরের মাঝেই বড় ইঙ্গিত দিলেন শমীক ভট্টাচার্য

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে উঠলেও বিজেপি কি কোনো সুনির্দিষ্ট ‘মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী’ ঘোষণা করবে? রবিবার রাজ্য রাজনীতিতে বহুল চর্চিত এই প্রশ্নের উত্তর দিলেন বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বঙ্গ সফরের আবহেই তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আসন্ন নির্বাচনে কোনো একক ব্যক্তি নয়, বরং প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নমূলক কর্মসূচি এবং তাঁর বলিষ্ঠ ভাবমূর্তিকে সামনে রেখেই লড়াই করবে গেরুয়া শিবির। শমীকবাবুর এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মোকাবিলায় বিজেপি এবারও ‘ব্যক্তি’র চেয়ে ‘মোদী ম্যাজিক’ এবং দলের ‘নীতি’কেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

বিগত বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রীকে পরাজিত করার পর বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে বিশেষ জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তবে ওড়িশা বা হরিয়ানার উদাহরণ টেনে শমীক ভট্টাচার্য জানান, নির্দিষ্ট কোনো মুখ ছাড়াও নির্বাচনে জয়লাভ করার ইতিহাস বিজেপির রয়েছে। তাঁর মতে, ওড়িশায় যেমন কোনো নির্দিষ্ট মুখ ছাড়াই সাফল্য এসেছে, বাংলাতেও আমাদের প্রধান তুরুপের তাস হলেন ‘বিকাশ পুরুষ’ নরেন্দ্র মোদী। তবে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যদি ভবিষ্যতে অন্য কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তা ভিন্ন বিষয়; কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে মোদীর নেতৃত্বেই সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপাবে দল।

তৃণমূল কংগ্রেস বারবার বিজেপিকে ‘বহিরাগত’ দল হিসেবে দেগে দিয়ে ‘বাংলার ঘরের মেয়ে’ মমতার কোনো বিকল্প নেই বলে দাবি করে আসছে। এর পাল্টা কৌশলী জবাব হিসেবে বিজেপি দিল্লির হাই-কমান্ডের রণকৌশল মেনে মোদীকেই প্রধান মুখ হিসেবে তুলে ধরছে। ওড়িশায় মোহন চরণ মাঝির মতো নির্বাচনের পর মুখ্যমন্ত্রী বেছে নেওয়ার যে ধারা বিজেপি বজায় রেখেছে, বাংলাতেও তার পুনরাবৃত্তি হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে।

আগামী নির্বাচনে বিজেপি কত আসনে জিতবে, তার নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ না করলেও শমীক ভট্টাচার্য অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেছেন যে, কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত মানুষের ভরসা এখন কেবল নরেন্দ্র মোদী। বাংলার মানুষও এই ধারার ব্যতিক্রম হবে না এবং বিজেপি অনায়াসেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে রাজ্যে পরবর্তী সরকার গঠন করবে। শমীকের এই কৌশলী বার্তায় স্পষ্ট যে, নির্বাচনের আগে এখনই কোনো একক মুখ এনে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বা বিতর্কের সুযোগ দিতে নারাজ পদ্ম শিবির।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *