বাংলার যুবকদের ‘ডবল ধোঁকা’ দিয়েছে তৃণমূল, হলদিয়ার জনসভা থেকে সুর চড়ালেন মোদী

হলদিয়ার জনসভা থেকে রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অভিযোগ করেছেন যে, তৃণমূল কংগ্রেস বাংলার যুবক-যুবতীদের ‘ডবল-ডবল’ চাকরির প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে কেবল ‘ডবল ধোঁকা’ দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, রাজ্যে কর্মসংস্থানের নামে যে দুর্নীতি হয়েছে, সেই ‘পাপ’ আগামী ১০০ বছরেও মুছে ফেলা সম্ভব নয়। বিজেপি ক্ষমতায় এলে সরকারি নিয়োগে স্বচ্ছতা ফেরানো হবে এবং নির্দিষ্ট সূচি মেনে শূন্যপদ পূরণ করা হবে বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া কাটমানি মুক্ত নিয়োগ ও নিয়মিত ‘রোজগার মেলা’ আয়োজনের আশ্বাস দেন তিনি।
তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনে রাজ্যে নারী সুরক্ষা তলানিতে ঠেকেছে বলেও সরব হন প্রধানমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলায় মহিলারা বর্তমানে চরম সংকটে রয়েছেন এবং রাস্তায় বেরোলে কোনো পেশার মেয়েই আজ নিরাপদ নন। কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প রাজ্য সরকার বাস্তবায়ন করতে দিচ্ছে না বলে দাবি করে মোদী বলেন, বাংলার সার্বিক উন্নয়নের জন্য একটি ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও অনুপ্রবেশ ইস্যু নিয়েও কড়া সমালোচনা শোনা যায় প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে। তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূলের আমলে শুধুমাত্র অনুপ্রবেশকারীরা ফুলে-ফেঁপে উঠেছে এবং বাংলা এখন গরুপাচার ও জাল নথির কারখানায় পরিণত হয়েছে। নন্দীগ্রামের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, গত বিধানসভা নির্বাচনে যেমন পরিস্থিতি হয়েছিল, আগামীতে ভবানীপুর তথা সমগ্র বাংলায় একই ফলাফল দেখা যাবে।
বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, বিজেপি মানুষের জান-মাল ও সম্মানের গ্যারান্টি দেয়। উন্নয়নের পথে ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ মন্ত্র অনুসরণ করার পাশাপাশি যাঁরা বাংলার সম্পদ লুঠ করেছে, তাঁদের কাছ থেকে হিসাব নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। বাংলার মানুষের এই ভালোবাসার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মোদী আগামী দিনে রাজ্যে দুর্নীতিমুক্ত ও নিরাপদ সমাজ গড়ার অঙ্গীকার করেন।