বাইরে থেকে গুণ্ডা ও টাকা আনছে বিজেপি সতর্কবার্তা মমতার

বাইরে থেকে গুণ্ডা ও টাকা আনছে বিজেপি সতর্কবার্তা মমতার

রাজ্যে নির্বাচনী উত্তাপের মধ্যেই বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শাণালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত এক প্রচারসভা থেকে তিনি অভিযোগ করেন, বাইরে থেকে বাস ও ট্রেনে করে লোক এনে বাংলায় অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, পরিকল্পিতভাবে প্রশাসনের স্তরে রদবদল ঘটিয়ে অরাজকতা তৈরির ছক কষছে গেরুয়া শিবির। সরাসরি বিজেপিকে নিশানা করে তিনি বলেন, বাইরের লোক দিয়ে টাকা ও গুণ্ডা আমদানি করে বাংলার বদনাম করার চেষ্টা চলছে।

কালিয়াচককাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, গুজরাট ও অন্যান্য রাজ্য থেকে বহিরাগতদের এনে বিশৃঙ্খলা ছড়ানোর নীল নকশা তৈরি হয়েছে। ভোট ঘোষণার পর বাংলায় যেভাবে বড় সংখ্যক পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের বদলি করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর মতে, অন্যান্য রাজ্যে হাতেগোনা বদলি হলেও বাংলায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ৪০০-র বেশি রদবদল করা হয়েছে। স্থানীয় মানুষকে এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।

সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে ভাঙন ধরাতে বিজেপি অন্য দলগুলিকে ব্যবহার করছে বলেও তোপ দাগেন মমতা। তিনি দাবি করেন, মুম্বই থেকে নির্দিষ্ট দলকে ‘ধার’ করে এনেছে বিজেপি এবং এতে কংগ্রেসের উস্কানিও রয়েছে। বিহার নির্বাচনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে যেভাবে ভোট কেটে বিজেপিকে সুবিধা করে দেওয়া হয়েছিল, বাংলায় সেই একই কৌশলের পুনরাবৃত্তি ঘটানোর চেষ্টা চলছে। এনআইএ-র তৎপরতা শুরুর আগেই রাজ্য প্রশাসন ষড়যন্ত্রকারীদের গ্রেফতার করেছে বলে তিনি জানান।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ভোটের আগে ১৫ দিন বাংলায় থাকার পরিকল্পনাকেও কড়া ভাষায় কটাক্ষ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ভয় দেখাতে ১৫ দিন কেন, চাইলে ৩৬৫ দিনই বাংলায় থাকতে পারেন শাহ। তৃণমূল নেত্রীর দাবি, শাহের মুখ সাধারণ মানুষ যত বেশি দেখবে, বিজেপির ভোট তত বেশি কমবে। তাঁর কথায়, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর চেহারায় কেবলই ‘অত্যাচারের চিহ্ন’ প্রকাশ পায়।

নির্বাচনী আবহে পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রসঙ্গ তুলে বিজেপিকে একহাত নেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, একদিকে যখন গুজরাট থেকে বাসে করে লোক আনা হচ্ছে, তখন ভিন রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া বাংলার শ্রমিকদের ফেরার জন্য ট্রেনের টিকিটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য বিজেপি বাংলার সংস্কৃতি ও শান্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে বলে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দেন। সব মিলিয়ে, নির্বাচনের প্রাক্কালে বহিরাগত তত্ত্বকে সামনে রেখে সুর চড়িয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *