‘বাঙালি হিন্দুত্ব’ নয়, বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার হাতিয়ার ‘জয় শ্রীরাম’

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক কৌশলে বদল এনে বিজেপি বর্তমানে ‘বাঙালি হিন্দুত্ব’-এর ওপর জোর দিচ্ছে। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সভাগুলোতে এখন ‘জয় শ্রীরাম’-এর পাশাপাশি ‘জয় মা কালী’ বা ‘জয় মা দুর্গা’ স্লোগান নিয়মিত শোনা যাচ্ছে। সায়েন্স সিটি থেকে দুর্গাপুর, সর্বত্রই এই নতুন ধারার প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে। তবে সংখ্যালঘু মোর্চার কর্মীদের জন্য কালী বা দুর্গার বন্দনার চেয়ে চিরাচরিত ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দেওয়া অধিকতর সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যের বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার রাজ্য সভাপতি আলি হোসেন সংগঠনের অন্দরে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানের এক নতুন ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। তাঁর মতে, এটি কোনো ধর্মীয় স্লোগান নয়, বরং আদর্শ সুশাসন ও সুশাসকের প্রতীক। রামচন্দ্রকে ভারতীয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং সবার পূর্বপুরুষ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, সুশাসক হিসেবে রামের জয়ধ্বনি দিতে মুসলিমদের কোনো বাধা থাকা উচিত নয়। সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ ইতিমদ্যেই শুরু হয়েছে।
রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব যখন কালীঘাটের বিগ্রহ বা দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের আদলে মঞ্চ সাজিয়ে জনমত গঠনের চেষ্টা করছেন, তখন সংখ্যালঘু শাখা নিজেদের ঘরানায় সংহতি বজায় রাখছে। জোর করে স্লোগান দেওয়ানোর নীতিতে বিশ্বাসী না হলেও, ‘জয় শ্রীরাম’ কেন ধর্মীয় গণ্ডির ঊর্ধ্বে, সেই যুক্তি মানুষের কাছে তুলে ধরছে তারা। বর্তমানে ‘বাঙালি হিন্দুত্ব’-এর প্রেক্ষাপটে সংখ্যালঘু সমাজে এই মতাদর্শগত অবস্থান কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।