বাড়িতেই প্রসবের পর সদ্যোজাতর রহস্যমৃত্যু! স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা জানতেন না দাবি স্বামীর

কেরলের তিরুবনন্তপুরম জেলার কাট্টাকদ এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। বাড়িতে সন্তান প্রসবের কিছুক্ষণের মধ্যেই এক সদ্যোজাত শিশুর মৃত্যু ঘিরে ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। পুলিশি তদন্তে প্রাথমিক অনুমানে উঠে আসছে খুনের তত্ত্ব। শিশুটির শরীর ও ঘাড়ে আঘাতের চিহ্ন মেলায় বিষয়টিকে নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে মেনে নিতে পারছেন না তদন্তকারীরা। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে কাট্টাকদ সংলগ্ন পূজনাড়ু এলাকায়। ২১ বছর বয়সী শামনা সোমবার দুপুরে নিজের বাড়িতেই এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। আলতাফ নামে শামনার স্বামী পেশায় দিনমজুর। তার দাবি, ঘটনার সময় তিনি বাড়ির বাইরে ছিলেন। বাড়িতে ফিরে স্ত্রীকে যন্ত্রণায় কাতরাতে দেখে তিনি একটি অটো রিকশা আনতে যান। ফিরে এসে দেখেন রক্তাপ্লুত অবস্থায় স্ত্রী ও সদ্যোজাত পড়ে রয়েছে। তড়িঘড়ি তাদের হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ তদন্তে নামলে এক অদ্ভুত তথ্য সামনে আসে। আলতাফ পুলিশকে জানান যে, তার স্ত্রী নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন—এই বিষয়টি তার একেবারেই জানা ছিল না। দীর্ঘ নয় মাস ধরে স্ত্রীর গর্ভাবস্থার কথা স্বামীর অজানা থাকার বিষয়টি ধোপে টিকছে না বলে মনে করছেন দুঁদে গোয়েন্দারা। স্বামীর এই বয়ান ঘিরে দানা বাঁধছে গভীর সন্দেহ।
বর্তমানে গুরুতর রক্তক্ষরণের কারণে শামনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শিশুটির দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এটি পরিকল্পিত হত্যা নাকি অন্য কোনও দুর্ঘটনা, তা খতিয়ে দেখতে শামনাকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্ট হবে। যদি এটি হত্যা বলে প্রমাণিত হয়, তবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।