বাড়ি ভাড়া ছেড়ে হোটেলে বসবাস করে বছরে সাশ্রয় ১০ লক্ষ টাকা

আর্থিক মন্দা বা ব্যক্তিগত সংকটে মানুষ কতই না বিকল্প পথ খুঁজে নেয়। তবে আমেরিকার ফ্লোরিডার এক দম্পতি সঞ্চয়ের যে অভিনব উপায় বের করেছেন, তা রীতিমতো চমকপ্রদ। গত তিন বছর ধরে নিজেদের কোনো স্থায়ী বাড়ি নেই তাদের। একটি হোটেলের এক কামরার ঘরেই দিব্যি সংসার পেতেছেন এই দম্পতি। আর এই অদ্ভুত জীবনযাত্রার মাধ্যমেই বছরে তারা সাশ্রয় করছেন প্রায় ১০ লক্ষ টাকা।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৩ সালে, যখন পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী ব্যক্তিটি হঠাৎ কাজ হারান। সেই সময় সংস্থা থেকে পাওয়া থোক টাকা দিয়ে বিলাসিতা বজায় রাখা আসাম্ভব হয়ে পড়েছিল। ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা কাটাতে তারা জীবনযাত্রার ধরনে আমূল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমে কিছুদিন আত্মীয়র বাড়িতে থাকার পর স্থায়ী আবাসনের বদলে তারা বেছে নেন হোটেল জীবন।
দম্পতিটির দাবি, বর্তমানে আমেরিকার আবাসন বাজারের যা পরিস্থিতি, তাতে বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকার চেয়ে হোটেলে থাকা অনেক বেশি সাশ্রয়ী। মাসে মাসে উচ্চহারে ভাড়া, ইউটিলিটি বিল এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচের দুশ্চিন্তা থেকে তারা এখন মুক্ত। হোটেলের নির্দিষ্ট ভাড়ার মধ্যেই সব সুবিধা মেলায় তাদের বাজেটে বড়সড় স্বস্তি মিলেছে। হোটেলের ছোট একটি ঘরেই তারা নিজেদের প্রয়োজনীয় সব গুছিয়ে নিয়েছেন।
জীবনযাত্রার খরচ আরও কমাতে হোটেলের ঘরেই রান্নার কাজ সারেন ওই নারী। এতে বাইরের খাবারের বিশাল খরচ বেঁচে যাচ্ছে। হোটেলের অন্যান্য বাসিন্দাদের সাথেও তাদের সুসম্পর্ক তৈরি হয়েছে। এমনকি বিভিন্ন উৎসবে তারা হোটেলের কর্মীদের জন্যও বিশেষ পদ রান্না করেন। তিন বছর ধরে এই যাযাবর জীবন এখন তাদের কাছে স্বাভাবিক ও আরামদায়ক হয়ে উঠেছে।
নিউ ইয়র্ক পোস্টে এই খবরটি প্রকাশিত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বর্তমানে আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধির বাজারে সঞ্চয়ের এই ‘হোটেল মডেল’ অনেকের নজর কেড়েছে। প্রথাগত নিয়মের বাইরে গিয়েও যে স্বাচ্ছন্দ্যে থাকা যায় এবং বিপুল অর্থ জমানো সম্ভব, এই দম্পতি তার এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছেন। তথাকথিত সামাজিক মর্যাদা নয়, বরং বাস্তব বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়েই তারা আজ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী।