বাতাস দূষণে বাড়ছে মানসিক রোগ, সতর্কবার্তা বিজ্ঞানীদের

বিশ্বজুড়ে বায়ুদূষণের মাত্রা ভয়াবহ আকার ধারণ করায় সাধারণ মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বাতাসে ভাসমান সূক্ষ্ম কণার (পিএম ২.৫) উপস্থিতি নির্ধারিত সীমার চেয়ে প্রায় ১৭ গুণ বেশি। গত তিন দশকে বিষাক্ত কার্বনের পরিমাণ দ্বিগুণ হওয়ায় দিল্লি, মুম্বই ও কলকাতার মতো মেগাসিটিগুলো এখন চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
গবেষকদের দাবি, এই দূষণ কেবল ফুসফুসের ক্ষতি করছে না, বরং সরাসরি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ওপর আঘাত হানছে। বাতাসে থাকা নাইট্রিক অক্সাইড ও বিষাক্ত রাসায়নিক রক্তনালীতে জমা হয়ে স্বাভাবিক রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত করছে। এর ফলে মানুষের মধ্যে ডিপ্রেশন বা মানসিক অবসাদ এবং স্মৃতিনাশ বা ডিমেনশিয়ার মতো জটিল সমস্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, দূষিত আবহাওয়া শিশুদের স্বাভাবিক মানসিক বিকাশও রুখে দিচ্ছে। কলকারখানার ধোঁয়া, প্লাস্টিক ও যানবাহনের দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যতে স্কিৎজোফ্রেনিয়ার মতো গুরুতর ব্যাধি আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সুস্থ জনজীবন বজায় রাখতে অবিলম্বে পরিবেশ দূষণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।