বাবার বয়স ৩০ আর মেয়ে ৩৫, ভোটার তালিকায় কমিশনের আজব কাণ্ড ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য

পূর্ব বর্ধমানের ভাতার গার্লস হাইস্কুলের ১১৪ নম্বর বুথের সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ হতেই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভাতার বাজারের সারদা পল্লির বাসিন্দা তথা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী মহম্মদ শওকত হোসেনের বয়স তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে মাত্র ৩০ বছর। অন্যদিকে, তাঁর দুই মেয়ে সহেলি শবনম ও গুলশিশ শবনমের বয়স দেখানো হয়েছে ৩৫ বছর। বাবার চেয়ে মেয়ের বয়স পাঁচ বছর বেশি হওয়ার এই অদ্ভুত অসঙ্গতি দেখে হতবাক এলাকাবাসী।
ওই বুথে মোট ৯৭৭ জন ভোটারের মধ্যে প্রথম দফায় অনেকের নাম বাদ যায় এবং ৪৩ জন বিচারাধীন ছিলেন। শেষ পর্যন্ত সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় মাত্র তিনজনের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়, যাঁদের মধ্যে এই শওকত হোসেন ও তাঁর দুই কন্যা রয়েছেন। ষাটোর্ধ্ব একজন পেনশনভোগী ব্যক্তির বয়স কীভাবে ৩০ বছর হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও স্থানীয় বিএলও অরুণ হাটি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।
এই একই বুথে কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগে ৩০ বছর কর্মরত দেবযানী সুলতানা। পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় ১১ দফা নথি জমা দেওয়া সত্ত্বেও তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। যথাযথ প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও কেন নাম বাদ পড়ল এবং ভোটার তালিকায় বয়সের এমন পাহাড়প্রমাণ ভুল কীভাবে হলো, তা নিয়ে জেলাজুড়ে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে। মূলত তথ্যের নির্ভুলতা ও যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে কাঠগড়ায় নির্বাচন কমিশন।