বাবার সঙ্গে ছেলের ৫০ বছরের ব্যবধান বড় কথা নয়, কংগ্রেস প্রার্থীর ভোটাধিকার নিয়ে বড় রায় ট্রাইব্যুনালের

বাবার সঙ্গে ছেলের ৫০ বছরের ব্যবধান বড় কথা নয়, কংগ্রেস প্রার্থীর ভোটাধিকার নিয়ে বড় রায় ট্রাইব্যুনালের

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকার চূড়ান্ত তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে দানা বেঁধেছিল বিতর্ক। বিশেষ করে বাবা ও ছেলের বয়সের ব্যবধান ও নথিতে নামের অসঙ্গতিকে কেন্দ্র করে বহু ভোটারের নাম তালিকাভুক্ত হয়নি। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস প্রার্থী মহম্মদ মোত্তাকিন আলমের নাম বাদ পড়া নিয়ে মামলা গড়ায় ট্রাইব্যুনাল পর্যন্ত। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে দ্রুত শুনানির পর ট্রাইব্যুনাল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বাবা-ছেলের বয়সের ফারাক ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে কোনো অন্তরায় হতে পারে না।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ভুয়ো ভোটার চিহ্নিত করতে নথিপত্রের যুক্তিগত অসঙ্গতির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, অনেকেই ওপার বাংলা থেকে এসে তথ্য গোপন করে পরিচয়পত্র তৈরি করে। মোত্তাকিনের ক্ষেত্রে তাঁর বাবার সঙ্গে বয়সের ব্যবধান ছিল ৫০ বছর, যা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এছাড়া বিভিন্ন নথিতে তাঁর বাবার নামের বানানে কিছু তফাত লক্ষ্য করা গিয়েছিল। কোথাও ‘আলি ওলি’, কোথাও ‘ওলি মহম্মদ’ বা ‘আলি মহম্মদ’ হিসেবে নাম নথিভুক্ত ছিল। তবে খুঁটিয়ে দেখার পর কমিশন জানায়, সমস্ত নথিতে ভোটার কার্ডের নম্বর এক থাকায় এই অসঙ্গতি বিচার্য নয়।

২০১৬ সালের প্রাক্তন বিধায়ক তথা যদুপুর পঞ্চায়েত সমিতির এই সদস্যের পারিবারিক ইতিহাস বলছে, ১৯৭১ সাল থেকেই তাঁর বাবার নাম মালদার ইংরেজবাজারের ভোটার তালিকায় ছিল। ট্রাইব্যুনাল তাদের পর্যবেক্ষণে সাফ জানিয়েছে, কোনো ভোটারের বাবা-মাকে নিয়ে প্রশ্ন তোলা বা বিচার করার এক্তিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নেই। শুধুমাত্র বয়সের পার্থক্যের কারণে কাউকে নাগরিক অধিকার বা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা সম্ভব নয়। এই রায়ের ফলে কংগ্রেস প্রার্থীর এসআইআর তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির পথ প্রশস্ত হলো।

এই ঘটনা রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া এবং কমিশনের কড়াকড়ি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ট্রাইব্যুনালের এই সিদ্ধান্ত আগামী দিনে অনুরুপ সমস্যা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। সঠিক নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও কেবল বয়সের গাণিতিক ব্যবধানে নাম বাদ দেওয়া যে আইনত টিকবে না, এই রায় তা পুনরায় নিশ্চিত করল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *