বারাণসীর মণিকর্ণিকা ঘাটে চিতার ছাইয়ে ‘মাসান হোলি’ উদযাপন

বারাণসীর মণিকর্ণিকা ঘাটে চিতার ছাইয়ে ‘মাসান হোলি’ উদযাপন

বারাণসীর ঐতিহ্যবাহী মণিকর্ণিকা ও হরিশচন্দ্র ঘাটে প্রতি বছরের মতো এবারও সাড়ম্বরে উদযাপিত হলো ‘মাসান হোলি’। রংবারী একাদশীর পরের দিন আয়োজিত এই উৎসবে ভক্ত ও অঘোরিরা আবিরের বদলে একে অপরকে চিতার ছাই মাখিয়ে হোলি খেলেন। এই অনন্য প্রথাটি দেখতে দেশ-বিদেশের বহু পর্যটক কাশীর মহাশ্মশানে ভিড় জমান।

পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, ভগবান শিব মাতা পার্বতীকে নিয়ে ফেরার সময় দেবতারা রঙের হোলি খেললেও শ্মশানের ভূত ও অঘোরিরা তাতে অংশ নিতে পারেনি। তাই পরের দিন মহাদেব স্বয়ং শ্মশানে এসে চিতার ছাই দিয়ে হোলি খেলে তাদের তুষ্ট করেন। সেই প্রাচীন প্রথা মেনেই আজও শ্মশানেশ্বর মহাদেব মন্দিরে পুজোর মাধ্যমে এই উৎসব শুরু হয়।

উৎসব চলাকালীন ভক্তরা ‘খেল মাসানে মে হোলি দিগম্বর’ স্লোগান ও লোকগীতি গেয়ে মহাদেবের আরাধনা করেন। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এটি একটি অত্যন্ত পবিত্র ধর্মীয় আচার। জ্বলন্ত চিতার মাঝে ছাই ও আবিরের মিশ্রণে তৈরি এক অপার্থিব পরিবেশের মধ্য দিয়ে কাশীর এই প্রাচীন সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য জীবন্ত হয়ে ওঠে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *