বালি পাচারে অভিযুক্ত তৃণমূল বিধায়ক ও জেলা সভাপতির ছেলে

বালি পাচারে অভিযুক্ত তৃণমূল বিধায়ক ও জেলা সভাপতির ছেলে

রাজ্য রাজনীতিতে ফের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। মালদা জেলার ফুলহার নদী থেকে বালি ও মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অভিযোগের তীর উঠেছে শাসকদল তৃণমূলের রতুয়ার বিধায়ক সমর মুখ্যার্জী এবং দলের জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সির ছেলের দিকে। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে তা বিজেপির অপপ্রচার বলেই দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ, মালদার রতুয়া ১ নম্বর ব্লকের কাহালা গ্রাম পঞ্চায়েতের শিবপুর ঘাট এলাকায় রাতের অন্ধকারে চলছে বালি পাচার। গত কয়েকদিন ধরে বালিভর্তি একাধিক গাড়ি আটক করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা বলেও দাবি উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।

বিজেপি পরিচালিত কাহালা গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান নদীর ধারে অবৈধভাবে বালি-মাটি কাটার অভিযোগ তুলে বিডিও ও জেলা শাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ, নিয়ম না মেনেই নদীর তীরবর্তী এলাকা থেকে বালি তোলা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বড়সড় বিপদের কারণ হতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা শেখ জাহাঙ্গিরের দাবি, ভোটের তহবিল জোগাড়ের জন্যই এই কাজ করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে জেসিপি মেশিন দিয়ে নদীর মাটি কেটে ভিনরাজ্যে পাচার করা হচ্ছে এবং এর পেছনে শাসকদলের নেতাদের মদত রয়েছে। দ্রুত এই পাচার বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

অন্য এক বাসিন্দা লাল মহম্মদের আশঙ্কা, এভাবে নদীর তীর কেটে নেওয়া হলে বর্ষার সময় ভয়াবহ নদীভাঙন ও বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাঁর অভিযোগ, স্থানীয় মানুষের ভবিষ্যৎ বিপন্ন করে রাজনৈতিক স্বার্থে এই কাজ চলছে।

যদিও রতুয়ার তৃণমূল বিধায়ক সমর মুখ্যার্জী সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, সরকারি অনুমতি নিয়েই নদীর বালি-মাটি কাটা হচ্ছে এবং এর থেকে সরকারি রাজস্ব আদায় হচ্ছে। তিনি নিজেও অবৈধ খননের বিরুদ্ধে বলে জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ঘটনায় রাজনৈতিক তরজা তীব্র হয়েছে। Bharatiya Janata Party শাসকদলের বিরুদ্ধে তোপ দেগে তদন্তের দাবি তুলেছে। ফলে ফুলহার নদীর বালি পাচার ইস্যুতে মালদার রাজনীতি এখন তপ্ত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *