বালুরঘাটে দুই সাংসদের প্রেস্টিজ ফাইট চরমে প্রচারে বিদ্যুৎকে নিয়ে নামলেন সুকান্ত

বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে। একদিকে বর্তমান সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, অন্যদিকে প্রাক্তন সাংসদ তথা তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা ঘোষ। লড়াই মূলত বর্তমান বনাম প্রাক্তনের হলেও বিজেপির বাজি এখন ‘ভূমিপুত্র’ কার্ড। বুধবার বালুরঘাট শহরের রাজপথে দুই শিবিরের হেভিওয়েট প্রচারকে কেন্দ্র করে সরগরম এলাকা।
ভূমিপুত্র তত্ত্বে বিজেপির ভরসা
বিজেপি প্রার্থী বিদ্যুৎ রায়ের সমর্থনে খোদ সুকান্ত মজুমদার প্রচারে নামায় এই লড়াই অন্য মাত্রা পেয়েছে। বালুরঘাটের বিদায়ী বিধায়ক অশোক লাহিড়ী কলকাতার বাসিন্দা হওয়ায় দলের ভেতরে যে ক্ষোভ ছিল, তা মেটাতেই এবার স্থানীয় প্রার্থীকে সামনে রাখা হয়েছে। সুকান্ত মজুমদার তহবাজার এলাকায় বাড়ি বাড়ি ঘুরে প্রচারের সময় বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, বিদ্যুৎ রায় এই মাটির সন্তান এবং একজন বিশিষ্ট আইনজীবী। তবে ভূমিপুত্র তত্ত্ব সামনে আনলেও জেলা বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও এসটি মোর্চার জেলা সভাপতির নির্দল হিসেবে মনোনয়ন জমা দেওয়া পদ্ম শিবিরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উন্নয়নের খতিয়ানে পালটা আক্রমণ অর্পিতার
তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা ঘোষ শহরের ১৭ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ডে নিবিড় জনসংযোগ করেন। তাঁর প্রচারের মূল হাতিয়ার হলো রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্প এবং সাংসদ থাকাকালীন তাঁর নিজস্ব কাজের খতিয়ান। অর্পিতা সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন সুকান্ত মজুমদারের দিকে। তাঁর দাবি, করোনা মহামারির কঠিন সময়ে যখন মানুষ পাশে চাইছিল, তখন বর্তমান সাংসদ ঘরে বসে ছিলেন। অন্যদিকে, বালুরঘাটে মেডিকেল কলেজ এবং পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন তিনি।
রাজনৈতিক সমীকরণ ও প্রভাব
এই লড়াইয়ের কেন্দ্রে রয়েছে বালুরঘাট শহরের জনমত। সুকান্ত মজুমদার যেখানে গতবারের জয়ের রেকর্ড বজায় রাখতে মরিয়া, সেখানে অর্পিতা ঘোষ পরাজয়ের গ্লানি মুছে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছেন। বিজেপির জন্য আদি ও নব্যের লড়াই এবং টিকিট না পেয়ে বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর সামাল দেওয়া এখন প্রধান মাথাব্যথা। অন্যদিকে, তৃণমূল চাইছে পুরসভা ও রাজ্য সরকারের পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার সাফল্যকে ভোটে রূপান্তর করতে।