বাসন্তীতে ক্যানিং-ঝড়খালি রেল প্রকল্প নিয়ে তৃণমূল-বিজেপি তরজা, তুঙ্গে নির্বাচনী প্রচার

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীতে বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্যানিং-ঝড়খালি রেললাইন প্রকল্পটি পুনরায় রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে মাতলা নদীর ওপর কেবল কয়েকটি পিলার নির্মাণ হওয়ার পর প্রকল্পের কাজ থমকে আছে। বিজেপি প্রার্থী বিকাশ সরদার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, নির্বাচনে জয়ী হলে আগামী ছয় মাসের মধ্যে এই রেল সম্প্রসারণের কাজ শুরু করবেন। পাশাপাশি তিনি এলাকায় সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল ও হিমঘর নির্মাণের আশ্বাসও দিচ্ছেন।
বিজেপির এই প্রতিশ্রুতিকে নির্বাচনী স্টান্ট বলে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল প্রার্থী নীলিমা মিস্ত্রি প্রশ্ন তুলেছেন, ২০১৪ সাল থেকে কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও বিজেপি কেন এতদিন এই প্রকল্পের কাজ শেষ করেনি। তিনি দাবি করেন, তৃণমূল মানুষের চাহিদা অনুযায়ী উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালনা করছে এবং নির্বাচনের পর স্থানীয় প্রয়োজনগুলোকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাল্টাপাল্টি এই অভিযোগে বাসন্তীর রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন সরগরম।
তবে রাজনৈতিক দলগুলোর এই বাগযুদ্ধে সন্দিহান স্থানীয় ভোটাররা। সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি সত্ত্বেও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে। বাসিন্দাদের একাংশের মতে, সুন্দরবনের উন্নয়নের জন্য এই রেল সংযোগ অত্যন্ত জরুরি হলেও বারবার কেবল আশ্বাসই মিলেছে। অন্যদিকে, এই আসনে বামফ্রন্ট ও আইএসএফ-এর মধ্যে প্রার্থী চূড়ান্ত না হওয়ায় লড়াই মূলত দ্বিমুখী আকার ধারণ করেছে। এলাকার প্রান্তিক মানুষের কর্মসংস্থান ও পর্যটন হাব তৈরির দাবি এখন ভোটের প্রধান ইস্যু।