বিএলও’র এক ভুলে লঙ্কাকাণ্ড তমলুকে, নথিপত্র হাতে সার্কিট হাউসে ভোটারদের ভিড় ঘিরে হুলস্থুল

বিএলও’র এক ভুলে লঙ্কাকাণ্ড তমলুকে, নথিপত্র হাতে সার্কিট হাউসে ভোটারদের ভিড় ঘিরে হুলস্থুল

তমলুক

সরকারি আধিকারিকের সামান্য এক ভুল নির্দেশে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল তমলুকের নিমতৌড়ি সার্কিট হাউস চত্বর। বৃহস্পতিবার দুপুরে হাড়কাঁপানো উত্তেজনার সাক্ষী থাকল গোটা এলাকা। বিএলও-র দেওয়া ভুল বার্তার জেরে শয়ে শয়ে ভোটার নথিপত্র হাতে নিয়ে পৌঁছে গেলেন সার্কিট হাউসের কড়া নিরাপত্তা বলয়ের সামনে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় পুলিশ ও প্রশাসনকে।

আসল ঘটনাটি কী ঘটেছিল?

বর্তমানে নিমতৌড়ির সার্কিট হাউসের অন্দরে চলছে হাই-প্রোফাইল নথি যাচাইয়ের কাজ। জেলাশাসক ইউনিস ঋষিণ ইসমাইলের তত্ত্বাবধানে মোট ১১ জন বিচারক সেখানে বসে ‘নন ম্যাপিং’ ও ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ তালিকায় থাকা ভোটারদের তথ্য খতিয়ে দেখছেন। এটি একটি অত্যন্ত গোপনীয় ও কঠোর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, যেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশের কোনও অনুমতি নেই।

কিন্তু গোলমাল পাকালেন তমলুকের ২৪ নম্বর পদুমপুর বুথের বিএলও পারভীন আক্তারি। অভিযোগ উঠেছে, তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের নির্দেশ দেন যে, তাঁদের যাবতীয় নথিপত্র নিয়ে সরাসরি সার্কিট হাউসে হাজিরা দিতে হবে। সেই নির্দেশ পাওয়া মাত্রই ১০৪ জন ভোটার হন্তদন্ত হয়ে পৌঁছান নিমতৌড়িতে। তাঁদের ধারণা ছিল, বিচারকরা সরাসরি তাঁদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধান করবেন।

প্রশাসনের বাধা ও বিক্ষোভ

নিরাপত্তায় মোড়া সার্কিট হাউসের গেটে ভোটারদের বিশাল বাহিনী পৌঁছাতেই বাধা দেন তমলুকের বিডিও ওয়াসিম রেজা এবং পুলিশ কর্মীরা। ভোটাররা ভেতরে ঢোকার দাবিতে অনড় থাকলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। ভোটারদের দাবি, “আমাদের বলা হয়েছে এখানে আসতে, তাহলে এখন কেন ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না?” বিক্ষুব্ধ জনতা সেখানে উপস্থিত বিএলও পারভীন আক্তারিকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছোটেন অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) তানিয়া পারভীন। তিনি দীর্ঘক্ষণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের বুঝিয়ে বলেন যে, বিচারক বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের ব্যক্তিগতভাবে ডাকা হয়নি। বিচারকরা শুধুমাত্র নথিপত্র খতিয়ে দেখছেন, সেখানে ভোটারদের উপস্থিতির প্রয়োজন নেই। দীর্ঘ আলোচনার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয় এবং ভোটাররা বাড়ি ফিরে যান।

প্রশাসনিক তৎপরতা ও বর্তমান পরিস্থিতি

এই ঘটনার পর সার্কিট হাউসের নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। স্ট্রংরুমের মতো নিশ্ছিদ্র পাহারায় মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা চত্বর। বিডিও ওয়াসিম রেজা স্বীকার করে নিয়েছেন যে, কোথাও একটা বড়সড় ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। তবে বিএলও কেন এমন ভুল নির্দেশ দিলেন, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ১৬টি বিধানসভা এলাকায় প্রায় এক লক্ষ সন্দেহজনক ভোটারের নথি যাচাইয়ের কাজ চলছে। তমলুক ছাড়াও কাঁথি ও হলদিয়া মহকুমা শাসক অফিসে মোট ২০ জন বিচারক এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সামলাচ্ছেন। নিমতৌড়ির এই বিশৃঙ্খলা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাকি কেন্দ্রগুলিতেও নিরাপত্তা ও সর্তকতা বাড়ানো হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে ভিড় না জমান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *