বিক্ষোভের ধাক্কা সামলে মোথাবাড়িতে জমে উঠেছে ভোটের প্রচার

বিক্ষোভের ধাক্কা সামলে মোথাবাড়িতে জমে উঠেছে ভোটের প্রচার

কয়েক দিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে মালদার মোথাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে ফের পুরোদমে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তৎপরতা। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিক্ষোভ এবং প্রশাসনিক জটিলতায় নির্বাচনী প্রচার কিছুটা থিতিয়ে পড়লেও বুধবার থেকে ময়দানে নেমেছেন প্রার্থীরা। বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী নজরুল ইসলাম যুব ও মহিলা ভোটারদের টার্গেট করে এদিন ব্যাপক জনসংযোগ করেন।

মোথাবাড়ির রাজনৈতিক সমীকরণ ও কৌশলী প্রচার

তৃণমূল প্রার্থী নজরুল ইসলাম বুধবার যুব কর্মীদের একটি বড় দল নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে প্রচার চালান। বিগত কয়েক দিনের অস্থিরতা কাটিয়ে নির্বাচনী মেজাজ ফেরাতে সরকারি উন্নয়নকেই প্রধান হাতিয়ার করেছেন তিনি। নজরুল ইসলামের মতে, এলাকার রাস্তাঘাট, পানীয় জল এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার যে আমূল পরিবর্তন হয়েছে, ভোটাররা তার প্রতিফলন ব্যালট বক্সেই দেবেন। বিশেষ করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা যুবশ্রীর মতো প্রকল্পগুলো গ্রামীণ অর্থনীতির ভোল বদলে দিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

মহিলা ও যুব ভোটারদের ওপর বিশেষ নজর

এবারের নির্বাচনে মোথাবাড়ি কেন্দ্রে জয়-পরাজয়ের তিলক নির্ধারণ করতে পারেন মহিলা ও তরুণ ভোটাররা। তৃণমূল শিবির এই দুই অংশের কাছে পৌঁছাতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংযোগের ওপর জোর দিচ্ছে। নজরুল ইসলামের দাবি, যুব সমাজ তাদের প্রধান শক্তি এবং উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে মানুষ পুনরায় তৃণমূলের ওপরেই ভরসা রাখবেন।

বিরোধীদের পালটা লড়াই ও সংখ্যালঘু ভোটব্যাংক

অন্যদিকে, শাসক দলের এই আত্মবিশ্বাসকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী নিবারণ ঘোষ। তার দাবি, মোথাবাড়ির রাজনৈতিক মেরুকরণ এবার ভিন্ন পথে বইছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু ভোটব্যাংকে ফাটল ধরেছে এবং তারা উন্নয়নের প্রশ্নে বিজেপির দিকে ঝুঁকছে বলে তিনি মনে করেন। বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে যে, এলাকার সাধারণ মানুষের ক্ষোভই বিক্ষোভে প্রকাশ পেয়েছে, যা নির্বাচনের ফলাফলে শাসক পক্ষকে বিপাকে ফেলবে।

প্রভাব বিশ্লেষণ

মোথাবাড়ি কেন্দ্রে ডিলিটেড ভোটারদের বিক্ষোভ প্র প্রার্থীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। পরিস্থিতি আপাত শান্ত হলেও ভোটারদের মনে সেই ক্ষোভ কতটা রয়ে গেছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিশ্লেষণ চলছে। শাসক দল যেখানে পরিষেবাকে সামনে রেখে এগোচ্ছে, বিরোধীরা সেখানে প্রশাসনিক গাফিলতি ও স্থানীয় ক্ষোভকে পুঁজি করে ভোট বৈতরণী পার হওয়ার চেষ্টা করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *