বিক্ষোভ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের জের, সাত বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী বদল করল কংগ্রেস

বিক্ষোভ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের জের, সাত বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী বদল করল কংগ্রেস

পশ্চিমবঙ্গের সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রে নিজেদের প্রার্থী তালিকায় বড়সড় রদবদল করল কংগ্রেস। গত ১ এপ্রিল প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর থেকেই দলের অন্দরে নজিরবিহীন বিক্ষোভ, হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ দুই দশক পর রাজ্যে একক শক্তিতে লড়াই করতে নামা শতাব্দী প্রাচীন এই দলটি সবার শেষে প্রার্থী ঘোষণা করেও অভ্যন্তরীণ কোন্দল সামাল দিতে কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই শেষ মুহূর্তে এই রদবদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাইকম্যান্ড।

দলের এই প্রার্থী তালিকাকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন কর্মীদের একাংশ। টাকার বিনিময়ে টিকিট বিক্রির গুরুতর অভিযোগ তুলে প্রদেশ কংগ্রেস সদর দফতর বিধান ভবনে ব্যাপক ভাঙচুর ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। বিক্ষুব্ধ কর্মীরা “টিকিট চোর, গদি ছোড়!” লেখা ফ্লেক্স নিয়ে প্রতিবাদ জানান। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, রড ও চেয়ার দিয়ে হামলায় এক কর্মীর মাথা ফেটে যায়। দীর্ঘ এক ঘণ্টা চলা এই রণক্ষেত্র সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

নদীয়ার নাকাশিপাড়ায় গোলাম কিবরিয়া মণ্ডলের জায়গায় শেখ তাহির এবং চাপড়ায় রাহিদুল মণ্ডলের বদলে আসিফ খান নতুন প্রার্থী হয়েছেন। উত্তর ২৪ পরগনার মিনাখাঁয় সুনয়না বিশ্বাস ও হাওড়ার মন্দিরবাজারে চাঁদ সরদারকে টিকিট দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পূর্ব বর্ধমানের রায়নায় পম্পা মালিক, কেতুগ্রামে আবু বক্কর এবং আউশগ্রামে তাপস বড়ালকে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে দল।

নির্বাচনের ঠিক মুখে দলের অন্দরে এমন চরম বিশৃঙ্খলা ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কংগ্রেস নেতৃত্বের জন্য বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূল ও বিজেপির সঙ্গে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আগে এই প্রার্থী বদল দলের ড্যামেজ কন্ট্রোল বা ক্ষত মেরামতেরই একটি প্রচেষ্টা। এই রদবদলের ফলে তৃণমূল স্তরের ক্ষোভ কতটা প্রশমিত হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *