বিচারকদের হেনস্থা নিয়ে মালদায় সরব মমতা, বিরোধীদের চক্রান্তেই বাংলার বদনামের অভিযোগ

বিচারকদের হেনস্থা নিয়ে মালদায় সরব মমতা, বিরোধীদের চক্রান্তেই বাংলার বদনামের অভিযোগ

মালদার বৈষ্ণবনগরের নির্বাচনী জনসভা থেকে মোথাবাড়িতে বিচারকদের গাড়ি আটকে হেনস্থা করার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার চরি অনন্তপুরের সভা থেকে তিনি সরাসরি এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির জন্য কংগ্রেস ও বিরোধীদের দায়ী করেন। তৃণমূল সুপ্রিমোর স্পষ্ট বার্তা, বিচারকদের আটকে রেখে কোনো লাভ হয়নি, বরং পরিকল্পিতভাবে এই কাজ করে বাংলার সম্মানহানি করা হয়েছে।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, এই গোলমালের নেপথ্যে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এই ঘটনার সূত্র ধরে কেন্দ্রীয় এজেন্সি এসে স্থানীয় ছেলেদের গ্রেপ্তার করতে পারে, যাতে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারে। কাদের নির্দেশে এবং কোন নীল নকশা অনুযায়ী বিচারকদের ওপর এই হামলা চালানো হলো, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দেখার দাবি জানান তিনি।

বিজেপির কড়া সমালোচনা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে রাজ্যের দক্ষ পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তাদের সরিয়ে দিয়ে বাংলাকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে গেরুয়া শিবির। মুখ্য সচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিবসহ শীর্ষ আধিকারিকদের বদলে দেওয়ায় প্রশাসনিক সমন্বয়ে সমস্যা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি হাঙ্গামা সৃষ্টি করে রাজ্যের উন্নয়ন স্তব্ধ করতে চাইছে।

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া নিয়ে কেন্দ্রকে তোপ দেগে মুখ্যমন্ত্রী জানান, মালদা, মুর্শিদাবাদসহ বিভিন্ন জেলায় ষড়যন্ত্র করে বহু মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এর বিরুদ্ধে তিনি সুপ্রিম কোর্টে লড়াই করেছেন এবং এসআইআর কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ২২ লক্ষ মানুষের নাম পুনরায় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন। যাদের নাম এখনও ওঠেনি, তাদের দ্রুত আবেদন করার পরামর্শ দেন তিনি।

মালদায় কংগ্রেস ও বিজেপির গোপন আঁতাত নিয়ে কটাক্ষ করে তৃণমূল নেত্রী বলেন, ভোটের সময় টাকা দিয়ে জনমত কেনার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি বহিরাগত ‘ভোট কাটানি’ দলগুলিকেও বিজেপির দালাল হিসেবে অভিহিত করে সংখ্যালঘু ভোটদাতাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। পরিযায়ী শ্রমিকদের বিপদে এসব দল পাশে থাকে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তৃণমূল প্রার্থী চন্দনা সরকারের সমর্থনে ভোট চেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কমিশন ক্ষমতা কাড়লেও তিনি মালদার উন্নয়ন থামতে দেননি। দাঙ্গাবাজদের প্রত্যাখাত করার ডাক দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষকে বিরোধীদের চক্রান্তের ফাঁদে পা না দেওয়ার অনুরোধ করেন। একইসঙ্গে বিচারব্যবস্থাকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের কড়া বার্তা দিয়ে তিনি নিজের বক্তব্য শেষ করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *