বিচারক নিয়োগে কেন সেরা কলেজিয়াম পদ্ধতি? মুখ খুললেন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি

নয়াদিল্লি: ভারতের বিচারব্যবস্থায় বিচারপতি নিয়োগের বহুল চর্চিত ‘কলেজিয়াম’ ব্যবস্থা নিয়ে বড় বয়ান দিলেন দেশের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাই। রবিবার সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি সাফ জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতে বিচারক নিয়োগের জন্য কলেজিয়াম ব্যবস্থার চেয়ে ভালো বিকল্প আর কিছু নেই।
নিখুঁত নয় তবে সেরা
বিচারপতি গাভাই স্বীকার করেছেন যে কোনও ব্যবস্থাই ১০০ শতাংশ নিখুঁত হতে পারে না। তিনি বলেন, “আমি বলব না কলেজিয়াম ব্যবস্থা ত্রুটিহীন। প্রতিটি ব্যবস্থারই নিজস্ব ভালো ও মন্দ দিক থাকে। কিন্তু দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় আমার মনে হয়েছে, অন্তত বর্তমান সময়ে আমাদের দেশের জন্য এই ব্যবস্থাই সবথেকে উপযুক্ত।”
স্বচ্ছতা ও সরকারের ভূমিকা
অনেকেই অভিযোগ করেন কলেজিয়াম ব্যবস্থা খেয়ালখুশি মতো কাজ করে। এই ধারণাকে নস্যাৎ করে দিয়ে তিনি জানান, হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ও দুই প্রবীণ বিচারপতির সুপারিশের পর নামগুলো কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠানো হয়। গোয়েন্দা বিভাগ ও বিভিন্ন পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে কেন্দ্র যদি কোনও আপত্তি জানায়, তবে কলেজিয়াম তা পুনর্বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।
কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ
এদিন বিচারপতি নিয়োগের দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে পরোক্ষভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করেন গাভাই। তিনি মনে করিয়ে দেন, কলেজিয়াম যদি দ্বিতীয়বার কোনও নাম সুপারিশ করে, তবে সরকার তা মেনে নিতে বাধ্য। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, দ্বিতীয়বার সুপারিশের পরেও অনেক নাম মাসের পর মাস আটকে রেখেছে কেন্দ্র। বিষয়টিকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে অভিহিত করেন তিনি।
‘বুলডোজার নীতি’ ও বিচারবিভাগ
বুলডোজার দিয়ে ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েও কড়া মন্তব্য করেন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যখন প্রশাসন কোনও ব্যক্তির অপরাধের সন্দেহে তার বাড়ি ভেঙে দেয়, তখন কি বিচারবিভাগ চুপ করে বসে থাকবে? আইনের শাসন বজায় রাখতে বিচারবিভাগীয় হস্তক্ষেপ জরুরি।”
বিচারপতিদের বদলি প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিশেষ পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্যকারী বিচারকদের বিরুদ্ধে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া কলেজিয়ামের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।