বিজেপিকে গণতান্ত্রিকভাবে নিঃস্ব করার ডাক দিয়ে রণকৌশল সাজালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে গণতন্ত্রের জয় হয়েছে বলে দাবি করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই জয় আসলে বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ে বাংলার সাধারণ মানুষের জয়। আগামী দিনে রাজ্যের ৮০ হাজার বুথে বিজেপিকে গণতান্ত্রিক উপায়ে রাজনৈতিকভাবে নিঃস্ব করার ডাক দিয়েছেন তিনি।
তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় কর্মীদের আগাম সতর্কবার্তা দিয়েছেন। সামনেই দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই, তাই নেত্রীর সুস্বাস্থ্যের প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখে ধরনা কর্মসূচি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান তিনি। সেই অনুরোধ মেনে নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও দলের কর্মী-সমর্থকদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। নির্বাচনের আর মাত্র ৪৫ থেকে ৫০ দিন বাকি রয়েছে উল্লেখ করে নেত্রী সাফ জানিয়েছেন, গেরুয়া শিবিরের কোনো চক্রান্তের মুখে যেন কেউ আত্মতুষ্টিতে না ভোগেন।
তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছেন, ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই বিজেপি টাকার থলি নিয়ে বাংলায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করবে। দিল্লি থেকে আসা নেতাদের গতিবিধি এবং তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন ধরানোর চেষ্টার বিরুদ্ধে কড়া নজরদারি চালানোর আশ্বাস দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অনুমান, আগামী ১৪ মার্চ কলকাতায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভার পরেই বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করতে পারে নির্বাচন কমিশন।
এদিকে ধরনা প্রত্যাহারের পর প্রাক্তন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যপাল পরিবর্তনের ঘটনাকে ‘অন্যায়’ আখ্যা দিয়ে তিনি পুনরায় তাঁকে বাংলায় আসার আমন্ত্রণ জানান। ভোটযুদ্ধের আবহে আইনি লড়াই থেকে রাজপথ—সর্বত্রই এখন তৃণমূল ও বিজেপির দ্বৈরথ তুঙ্গে।