বিজেপির খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কড়া তোপ মমতার, মাছ মাংস নিয়ে পাল্টা চ্যালেঞ্জ মুখ্যমন্ত্রীর

বিজেপির খাদ্যাভ্যাস সংক্রান্ত রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করে এবার সরাসরি ধর্মীয় রীতিনীতি ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রশ্নে গর্জে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি মানুষের খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করছে, যা বাংলার সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের পরিপন্থী। মাছ-মাংস খাওয়া নিয়ে বিজেপি নেতাদের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এই ধরনের বিধিনিষেধ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
নির্বাচনী প্রচারের মঞ্চ থেকে বিরোধীদের ‘বকধার্মিক’ আখ্যা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, যারা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করছে তারা প্রকৃত ধর্ম বোঝে না। নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, মা কালীর ভোগ থেকে শুরু করে তারাপীঠের মন্দিরেও মাছ দেওয়ার রীতি দীর্ঘদিনের। ফলে মাছ বা মাংস খাওয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ আনার যে কোনো প্রচেষ্টা আদতে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা। তাঁর মতে, মানুষের ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাসে নাক গলিয়ে বিজেপি প্রমাণ করছে তারা মানুষের মৌলিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করতে চাইছে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন যে, এই মাছ-মাংসের ইস্যুটি কেবল খাবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটি এখন রাজনৈতিক লড়াইয়ের রূপ নিয়েছে। বিজেপির বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের মাধ্যমে ‘বদলা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, মানুষ ইভিএমে এর জবাব দেবে। কোনোভাবে মেশিন বদলে বা কারচুপি করে জয় পাওয়া সম্ভব হবে না বলে তিনি দাবি করেন। বিশেষ করে বাংলার মা-বোনেদের উদ্দেশে তিনি আবেদন জানান, নিজেদের খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতি রক্ষার স্বার্থে যেন তারা বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করেন।
পরিশেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিজেপি নিজেদের ধর্ম প্রচারের নামে আসলে বিভাজন সৃষ্টি করছে। বাংলার মানুষ মাছ খেতে ভালোবাসেন এবং এটি তাদের ঐতিহ্যের অংশ। সেই অধিকারে আঘাত হানলে সাধারণ মানুষ যে চুপ করে থাকবে না, তা তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন। মাছ খাওয়ার অধিকার রক্ষা এবং বিজেপির আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে ভোটারদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান তৃণমূল নেত্রী।