বিজেপির পঞ্চম প্রার্থী তালিকায় ফের রদবদল, বাংলার তিন বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী পরিবর্তন

বিজেপির পঞ্চম প্রার্থী তালিকায় ফের রদবদল, বাংলার তিন বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী পরিবর্তন

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল ভারতীয় জনতা পার্টি। সোমবার দলের পক্ষ থেকে পঞ্চম প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে কৃষ্ণনগর উত্তর ও কল্যাণীসহ মোট পাঁচটি আসনের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এবারের তালিকায় সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো আদি ও নব্য শিবিরের ভারসাম্য বজায় রাখা। বিশেষ করে মধ্যমগ্রাম কেন্দ্রে দলের দীর্ঘদিনের পুরনো কর্মী অনিন্দ্য রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়কে টিকিট দিয়ে চমক দিয়েছে গেরুয়া শিবির। রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের পুরনো কর্মীদের ক্ষোভ প্রশমন করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিনের ঘোষিত তালিকায় একাধিক নতুন মুখ স্থান পেয়েছেন। কৃষ্ণনগর উত্তর আসন থেকে লড়বেন তারকনাথ চট্টোপাধ্যায় এবং কল্যাণী আসনে প্রার্থী করা হয়েছে অনুপম বিশ্বাসকে। এছাড়াও দমদম উত্তর কেন্দ্রে সৌরভ শিকদার এবং উলবেড়িয়া পূর্ব আসনে রুদ্রপ্র্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম অনুমোদন করেছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি। মধ্যমগ্রামের প্রার্থী অনিন্দ্য রাজু বন্দ্যোপাধ্যায় একসময় রাজনীতিতে কিছুটা নিষ্ক্রিয় থাকলেও, ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে তাঁর প্রত্যাবর্তনকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে প্রার্থী তালিকা নিয়ে দলের অন্দরে তৈরি হওয়া অসন্তোষকেও গুরুত্ব দিয়েছে নেতৃত্ব। কর্মী-সমর্থকদের তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত তিনটি কেন্দ্রে প্রার্থী বদল করতে বাধ্য হয়েছে বিজেপি। সল্টলেকের দলীয় দপ্তরে বিক্ষোভ পৌঁছনোর পর রাজ্য নেতৃত্বের সুপারিশে বসিরহাট উত্তর আসনে কৌশিক সিদ্ধার্থ, বিষ্ণুপুরে অভিজিৎ সর্দার এবং বেহালা পূর্ব কেন্দ্রে শঙ্কর শিকদারকে নতুন প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। মূলত নিচুতলার কর্মীদের দাবি মেনে নিয়েই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে খবর।

বিজেপির এই রদবদল নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে কতটা সাহায্য করবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলের অন্দরের দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে পদ্ম শিবিরের কাছে। পঞ্চম তালিকার এই ঘোষণার মাধ্যমে বিজেপি স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছে যে, তারা কর্মীদের আবেগকে গুরুত্ব দিয়েই রণকৌশল সাজাচ্ছে। স্থানীয় স্তরের ক্ষোভ সামলে এই নতুন প্রার্থীরা কতটা ভোটারদের মন জয় করতে পারেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *