বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা শেষ হতেই শুরু হলো কাটাছেঁড়া কার পালে হাওয়া আর কোথায় বাড়ল অস্বস্তি

বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা শেষ হতেই শুরু হলো কাটাছেঁড়া কার পালে হাওয়া আর কোথায় বাড়ল অস্বস্তি

রাজ্যে আটদিনের ‘পরিবর্তন যাত্রা’ শেষ করে এখন প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তির হিসাব মেলাতে ব্যস্ত বিজেপি শিবির। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থেকে শুরু করে ভিনরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের উপস্থিতিতে এই মেগা কর্মসূচি কতটা সফল হলো আর কোথায় খামতি রয়ে গেল তা নিয়ে দলের অন্দরেই শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

বিজেপি নেতৃত্বের দাবি এই যাত্রার মাধ্যমে বিধানসভা ভোটের আগে কর্মীদের চাঙ্গা করা সম্ভব হয়েছে। রাজ্যের প্রতিটি জেলা এবং অধিকাংশ বিধানসভা কেন্দ্রে পৌঁছে গিয়ে দলের দৃশ্যমানতা বাড়ানো এবং তৃণমূলকে রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে ঠেলে দেওয়া ছিল এই কর্মসূচির অন্যতম বড় সাফল্য। বিশেষ করে অমিত শাহের সরকারি চাকরিতে নিয়োগ ও সপ্তম বেতন কমিশন সংক্রান্ত ঘোষণাগুলো ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছে গেরুয়া শিবির।

তবে সাফল্যের পাশাপাশি অস্বস্তির কাঁটাও কম নেই। দলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কোচবিহার বা বনগাঁর মতো এলাকায় প্রত্যাশিত জনসমাগম না হওয়া এবং গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের প্রকট রূপ নেতৃত্বের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ নদিয়া ও বনগাঁয় গোষ্ঠীবিবাদের জেরে কর্মসূচি আশানুরূপ প্রভাব ফেলতে পারেনি। কলকাতা ও সংলগ্ন শহরতলিতেও এই যাত্রার প্রভাব ছিল অতি সামান্য। এছাড়া মেরুকরণের রাজনীতির বাইরে সংখ্যালঘু ভোট টানার ক্ষেত্রেও এই কর্মসূচি বিশেষ কার্যকর হয়নি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

দলের এই পর্যালোচনায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্যও। নির্বাচনী তহবিলের টাকা সব জায়গায় ঠিকমতো পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের সাংগঠনিক দক্ষতার প্রশংসা শোনা যাচ্ছে দলের অন্দরে। ভোটের আগে কোন কোন এলাকায় অন্তর্ঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে এবং কোথায় রণকৌশল বদলানো প্রয়োজন এই পরিবর্তন যাত্রা থেকে তার একটি স্পষ্ট রূপরেখা তৈরি করতে চাইছে বিজেপি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *