বিজেপির প্রতিষ্ঠা দিবসে বাংলা ও কেরলের কর্মীদের অকুতোভয় লড়াইয়ের ভূয়সী প্রশংসা মোদীর
বিজেপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোমবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি গত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে দলের নেতা-কর্মীদের ত্যাগের কথা স্মরণ করেন। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও কেরলের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দুই রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসার সংস্কৃতি থাকা সত্ত্বেও বিজেপি কর্মীরা ভয় পাননি এবং মাথা নত করেননি। প্রতিকূলতার মধ্যেও দেশসেবার কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি কর্মীদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও প্রণাম জানান।
দলের দীর্ঘ পথচলার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মোদী জানান, ক্ষমতার বাইরে থাকাকালীনও বিজেপি কর্মীরা নীতির প্রশ্নে আপস করেননি। তাঁদের জীবন ছিল ‘এক পা রেলে এবং অন্য পা জেলে’—এই আদর্শে অবিচল। তিনি বিরোধীদের পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির কড়া সমালোচনা করে বলেন, কংগ্রেস সর্বদা এক পরিবারকে প্রাধান্য দিয়েছে, কিন্তু বিজেপি ভারতের প্রতিটি মহান সন্তানকে সম্মান জানিয়েছে। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিনকে ‘পরাক্রম দিবস’ হিসেবে ঘোষণা এবং আজাদ হিন্দ ফৌজকে রাষ্ট্রীয় কুর্নিশ জানানো বিজেপির জাতীয়তাবাদী চেতনারই বহিঃপ্রকাশ।
সরকারের বিভিন্ন সাফল্যের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ৩৭০ ধারা রদ, তিন তালাক প্রথা বিলোপ এবং অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের মতো ঐতিহাসিক অর্জনের কথা তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, সংস্কারের এই অভিযান এখনও শেষ হয়নি। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) এবং ‘এক দেশ এক ভোট’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি নিয়ে সরকার কাজ করছে এবং এ নিয়ে দেশজুড়ে গভীর আলোচনা চলছে। বর্তমান সময়ে দেশের ‘জনবিন্যাসের পরিবর্তন’ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজেপি একমাত্র রাজনৈতিক দল যেখানে সংগঠনকে মায়ের মর্যাদা দেওয়া হয়। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও দীনদয়াল উপাধ্যায় থেকে শুরু করে লালকৃষ্ণ আডবাণী ও মুরলী মনোহর জোশীদের অবদান স্মরণ করে তিনি কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধি করেন। ১৯৮৪ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, কংগ্রেস বিপুল আসন পেয়েও জনতার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল, যার ফলে মানুষের আস্থা ক্রমশ বিজেপির দিকে ঘুরে যায়। বর্তমানে দেশের নতুন চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে এগিয়ে যাওয়ার সংকল্প প্রকাশ করেন তিনি।