বিজেপি এলে মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ হবে না, সুকান্তর মৎস্যমুখী প্রচারে তৃণমূলকে কড়া জবাব

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল হিসেবে এবার বাঙালির খাদ্যাভ্যাস নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলায় মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া হবে— তৃণমূল কংগ্রেসের এই ধারাবাহিক প্রচারের পালটা জবাব দিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথা বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। বুধবার সকালে বালুরঘাটের তহ বাজারে দলীয় প্রার্থী বিদ্যুৎ কুমার রায়কে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়ে সাধারণ মানুষ ও বিক্রেতাদের আশ্বস্ত করেন তিনি। সুকান্ত মজুমদার স্পষ্ট জানান যে, বিজেপি ক্ষমতায় আসলে মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ হবে না, বরং এর বিক্রি ও সহজলভ্যতা আরও বাড়বে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘মাছ-মাংস খেতে দেবে না’ তত্ত্বকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অপপ্রচার হিসেবে দাবি করে সুকান্ত মজুমদার ত্রিপুরার উদাহরণ টেনে আনেন। তাঁর মতে, ত্রিপুরার বিজেপি সরকারের অধীনে বাঙালিরা নিশ্চিন্তে মৎস্য আহার করছেন এবং সেখানকার খাদ্যাভ্যাস বাংলার বাঙালিদের চেয়েও সমৃদ্ধ। মূলত বিজেপিকে ‘বাঙালি বিরোধী’ ও ‘বহিরাগত’ হিসেবে চিহ্নিত করার যে চেষ্টা শাসকদল চালাচ্ছে, তার মোকাবিলা করতেই এদিন সশরীরে বাজারে গিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের অভয় দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। পাশাপাশি তিনি মনে করিয়ে দেন, আপদে-বিপদে বিজেপি সাংসদ ও বিধায়কদেরই সাধারণ মানুষ সবসময় পাশে পাবেন।
নির্বাচনী প্রচারে উঠে আসে স্থানীয় উন্নয়ন ও বালুরঘাট বিমানবন্দরের প্রসঙ্গও। দলের প্রচারের জন্য ভাড়া করা বিমান সঠিক পরিকাঠামোর অভাবে বালুরঘাটে নামতে না পারায় রাজ্য সরকারের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সুকান্ত। বিজেপি ক্ষমতায় এলে দ্রুত এই বিমানবন্দর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এদিনের প্রচারে বালুরঘাটের ভূমিপুত্র বিদ্যুৎ কুমার রায়কে পরিচয় করিয়ে দিয়ে স্থানীয় আবেগের প্রশ্নেও শান দেয় গেরুয়া শিবির। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খাদ্যাভ্যাসের মতো ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল বিষয়কে কেন্দ্র করে এই বিতর্ক ভোটের ময়দানে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
অন্যদিকে, সুকান্ত মজুমদারের এই মৎস্যমুখী প্রচারকে তীব্র কটাক্ষ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, বিজেপিশাসিত বিভিন্ন রাজ্যে আমিষ খাবারের ওপর নানা বিধিনিষেধ থাকায় ভাবমূর্তি রক্ষার্থেই সুকান্ত মজুমদারকে এখন বাজারে বাজারে ঘুরতে হচ্ছে। খাদ্যাভ্যাসের মতো দৈনন্দিন বিষয় নিয়ে দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবিরের এই সম্মুখ সমর নির্বাচনের আগে মেরুকরণের রাজনীতিকে আরও উসকে দিচ্ছে। শেষ পর্যন্ত বাংলার মানুষের ‘মাছেভাতে’ থাকা নিশ্চিত করতে কার ওপর ভরসা রাখবে জনতা, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।