বিজেপি কর্মীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া নাকি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র? হলদিবাড়িতে বিদ্ধ পঞ্চায়েত সদস্য

বিজেপি কর্মীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া নাকি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র? হলদিবাড়িতে বিদ্ধ পঞ্চায়েত সদস্য

হলদিবাড়ি: ভরা ফাল্গুনের রাতে উত্তপ্ত উত্তরবঙ্গ। কোচবিহারের হলদিবাড়ি ব্লকে বিজেপি নেতার ওপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় ছড়িয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। নেপথ্যে উঠে আসছে দলেরই এক কর্মীর স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। এক পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যকে প্রকাশ্যে ছুরি মারার এই ঘটনায় বর্তমানে তোলপাড় স্থানীয় রাজনীতি।

রক্তাক্ত লীলাহাটি: ঠিক কী ঘটেছিল সেই রাতে?

ঘটনার সূত্রপাত বুধবার রাতে হলদিবাড়ি ব্লকের পার মেখলিগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের নগর সাহেবগঞ্জ লীলাহাটি এলাকায়। স্থানীয় সূত্রের খবর, বিজেপির পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য তপন রায় যখন দেওয়ানগঞ্জ বাজার থেকে কেনাকাটা করে বাইক চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন, ঠিক তখনই তাঁর পথ আটকায় এক ব্যক্তি। অভিযোগ, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই শুরু হয় অকথ্য গালিগালাজ। বচসা চরমে উঠলে হঠাতই পকেট থেকে ধারালো ছুরি বের করে তপনবাবুর বুকে আমূল বসিয়ে দেয় আক্রমণকারী। যন্ত্রণায় চিৎকার করে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ওই বিজেপি নেতা। অবস্থা বেগতিক বুঝে এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয় অভিযুক্ত।

পরকীয়ার কাঁটা না কি পারিবারিক বিবাদ?

ঘটনার নেপথ্যে উঠে আসছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। স্থানীয় ও পুলিশি মহলের দাবি, এলাকারই এক বিজেপি কর্মীর স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল আক্রান্ত নেতার। এই নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই ওই দম্পতির মধ্যে চরম অশান্তি চলছিল। রাগে এবং অভিমানে বুধবার সকালেই ওই নারী তাঁর বাপের বাড়ি চলে যান। ধারণা করা হচ্ছে, স্ত্রীর চলে যাওয়ার বদলা নিতেই ওত পেতে বসেছিলেন স্বামী এবং সুযোগ বুঝে নেতার ওপর চড়াও হন তিনি।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নেতা

রক্তাক্ত অবস্থায় তপন রায়কে উদ্ধার করে প্রথমে হলদিবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে মেখলিগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে তিনি জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আক্রান্ত নেতার মা কল্পনা রায় বলেন, “আমার ছেলে বাজার করে ফিরছিল, তখনই ওকে খুনের চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা দোষীর কঠোর শাস্তি চাই।”

রাজনৈতিক দড়ি টানাটানি

বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা কমিটির সদস্য অপূর্বকুমার রায় এই ঘটনাকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন। তাঁর দাবি, ভোটের আগে এলাকায় অশান্তি ছড়াতে চক্রান্ত করা হচ্ছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের হলদিবাড়ি ব্লক সভাপতি মানস রায় বসুনিয়া পালটা কটাক্ষ করে বলেন, “আক্রমণকারী কে এবং সে কোন দলের লোক, তা সবাই জানে। এটা বিজেপির আদি ও নব্য শিবিরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারির ফল।”

মেখলিগঞ্জের এসডিপিও আশিস পি সুব্বা জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। মূল অভিযুক্ত বর্তমানে পলাতক থাকলেও তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *