বিজেপি কোনো ধর্মে বিশ্বাস করে না মানুষ মারার ধর্মই ওদের একমাত্র পথ, কড়া আক্রমণ মমতার

তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। দিল্লিতে বর্তমান সরকারের আর কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই বলে দাবি করে তিনি সাফ জানান, দেশের সামগ্রিক স্বার্থে দ্রুত পরিবর্তনের প্রয়োজন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, বিজেপি কোনো সুনির্দিষ্ট ধর্মে বিশ্বাসী নয়। তাদের একমাত্র ধর্ম হলো সাধারণ মানুষকে বিপন্ন করা এবং বিভাজনের রাজনীতি চালিয়ে যাওয়া। কেন্দ্রের এই জনবিরোধী নীতি রুখে দিতে সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়া নিয়ে বিজেপি সরকারকে কাঠগড়ায় তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দিল্লি থেকে বেছে বেছে সংখ্যালঘু, তফসিলি ও জনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এই ষড়যন্ত্র রুখতে তিনি দলের নেতাদের আরও সজাগ হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রচারেই সীমাবদ্ধ না থেকে সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। যাঁদের নাম ইচ্ছাকৃতভাবে কাটা হয়েছে, তাঁদের পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা দলীয় কর্মীদের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে বিজেপি গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো ধ্বংস করছে বলে দাবি তৃণমূল নেত্রীর। তাঁর মতে, কেন্দ্রীয় শাসক দল বিভেদের প্রাচীর তৈরি করে নির্দিষ্ট কিছু সম্প্রদায়ের মানুষকে কোণঠাসা করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলার মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি আশ্বাস দেন যে, তৃণমূল কংগ্রেস সর্বদা অনগ্রসর ও সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় লড়াই জারি রাখবে। দিল্লির ক্ষমতার পরিবর্তনই এখন দেশের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে তিনি ভাষণে জোর দেন।
পরিবর্তনের ডাক দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করেন যে, মানুষের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা যদি সাধারণ মানুষের স্বার্থবিরোধী কাজ করে, তবে তাঁদের ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার নেই। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই বর্তমানে তাঁর সরকারের অগ্রাধিকার। বিজেপির এই ‘মানুষ মারার ধর্ম’ প্রত্যাখ্যান করে মানবিক ও গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।