বিজেপি ক্ষমতায় এলে ডিসেম্বরের মধ্যে ৬ লক্ষ সরকারি চাকরি ঘোষণা শুভেন্দু অধিকারীর

বিজেপি ক্ষমতায় এলে ডিসেম্বরের মধ্যে ৬ লক্ষ সরকারি চাকরি ঘোষণা শুভেন্দু অধিকারীর

পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতনে নির্বাচনী জনসভা থেকে একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। দলের আনুষ্ঠানিক ইস্তেহার প্রকাশের আগেই এই জনসভাকে শুভেন্দুর ‘মিনি ইস্তেহার’ হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল। তাঁর প্রধান প্রতিশ্রুতি, বিজেপি সরকার গঠন করলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে রাজ্যের ৬ লক্ষ শিক্ষিত যুবক-যুবতীকে স্বচ্ছতার সঙ্গে সরকারি চাকরি প্রদান করা হবে। এ ছাড়া সরকারি চাকরির পরীক্ষার আবেদনের বয়সসীমাও ৫ বছর বাড়ানো হবে বলে তিনি জানান।

বেকারদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দলীয় কর্মীদের জন্যও বড় ঘোষণা করেছেন শুভেন্দু। তিনি জানান, যেসব বিজেপি কর্মী রাজনৈতিক কারণে জেল খেটেছেন বা অত্যাচারের শিকার হয়েছেন, তাঁদের মাসে ৫ হাজার টাকা করে ‘সংগ্রামী ভাতা’ দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই প্রতিবাদী আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত আইনি মামলা প্রত্যাহার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। অপরাধ দমনে উত্তরপ্রদেশের আদলে কড়া ব্যবস্থার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা।

আর্থিক উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি জানান, ১ জুন থেকে মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা করে প্রদান করা হবে। এছাড়া জল জীবন মিশন ও ফসল বিমা যোজনার সুবিধা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জ্বালানি ও পরিকাঠামোয়; যার অধীনে প্রতি বাড়িতে ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে সোলার প্যানেল বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষকদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর এবং বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগ দুর্নীতির ছায়া সরাতে চাকরির আবেদনে কোনও ফি না রাখার কথা জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা। সেই সঙ্গে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ ৪৫ দিনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মহিলা ও ছাত্রছাত্রীদের জন্য সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াতের মতো জনমোহিনী প্রকল্পের ইঙ্গিতও মিলেছে তাঁর বক্তব্যে। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর বাস্তবায়ন ও উচ্চশিক্ষার প্রসারেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আগামী ৫ এপ্রিল বিজেপির পূর্ণাঙ্গ নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশিত হওয়ার কথা। তার আগেই শুভেন্দু অধিকারীর এই গুচ্ছ প্রতিশ্রুতি এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ভাতার রাজনীতি’ নিয়ে করা তীব্র আক্রমণ বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সঠিক প্রয়োগ এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মূলত যুবসমাজ ও মহিলা ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করেছেন শুভেন্দু।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *