বিজেপি ক্ষমতায় না এলে বিপন্ন হবে পশ্চিমবঙ্গ? ভোটারদের মন জয়ে শমীক ভট্টাচার্যের বিস্ফোরক মাস্টারপ্ল্যান

কলকাতা নিউজ ডেস্ক
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ জয়ের লক্ষ্যে এবার অল-আউট ঝাঁপাতে চলেছে গেরুয়া শিবির। রাজ্য বিজেপি সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের সাম্প্রতিক বক্তব্যে স্পষ্ট যে, এবার আর শুধু রাজ্যের অন্দরে নয়, বরং দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি বাঙালির আবেগ ও সমর্থনকে হাতিয়ার করেই নবান্ন দখলের ব্লু-প্রিন্ট সাজাচ্ছে বিজেপি।
বাংলার নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় আশঙ্কার বাণী
গুজরাটের সুরাটে এক হাই-প্রোফাইল বৈঠকের পর শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে গোটা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে থাকা ২,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ অরক্ষিত সীমান্ত দিয়ে জঙ্গিরা অবাধে অনুপ্রবেশ করছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন তিনি। এমনকি ২৬/১১ মুম্বই হামলার সঙ্গেও পশ্চিমবঙ্গের যোগসূত্র থাকার দাবি তুলে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন এই বিজেপি নেতা।
বিদেশে থাকা বাঙালিদের ওপর নজর বিজেপির
শমীক ভট্টাচার্যের দাবি অনুযায়ী, কেবল রাজ্যের ভোটাররাই নন, বরং গুজরাট, চেন্নাই থেকে শুরু করে আমেরিকা, কানাডা ও লন্ডনে বসবাসকারী বাঙালিরাও এবার রাজ্যে পরিবর্তনের ডাক দিচ্ছেন। তাঁর মতে, তৃণমূল সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে এই প্রবাসী বাঙালিরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন। মালদহের কালিয়াচক দিয়ে জাল নোটের কারবার নিয়েও মমতা সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তিনি।
শিল্প ও কর্মসংস্থান নিয়ে ডাবল ইঞ্জিন সরকারের প্রতিশ্রুতি
রাজ্যের বর্তমান শিল্প পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বিজেপি সভাপতি বলেন যে, এক সময় মানুষ কাজের খোঁজে বাংলায় আসতেন, আর এখন বাংলার মানুষ বাইরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। তৃণমূল সরকারের আমলে প্রায় ৫ লক্ষ সরকারি চাকরি নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে সেই সব পদ পুনরায় পূরণ করা হবে।
তৃণমূল বনাম বিজেপি সরাসরি সংঘাত
রাজ্যের মানুষ এখন কার্যত দুই শিবিরে বিভক্ত বলে মনে করেন শমীক ভট্টাচার্য। কংগ্রেস ও বাম জমানার পর তৃণমূলও ব্যর্থ হয়েছে বলে তাঁর দাবি। রাজ্যের হারানো গৌরব ফেরাতে এবং কেন্দ্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে উন্নয়নের গতি বাড়াতে এবার ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার গঠনের আবেদন জানিয়েছেন তিনি। ভোটের আগে বিজেপির এই নতুন ‘মাস্টারপ্ল্যান’ বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ কতটা বদলে দেয়, এখন সেটাই দেখার।